এক বৈঠকে ‘এক তালাক, দুই তালাক, তিন তালাক প্রদান করলাম’ বলার হুকুম

জিজ্ঞাসা: মুহতারাম মুফতি সাহেব, হুজুর আমার আপন ছোট ভাইয়ের গত ডিসেম্বর ২০২১ তাং শরীয়ত সম্মতভাবে মসজিদে বিবাহ হয়। কিন্তু মেয়ের বয়স কম হওয়ার কারণে কোন কাবিন হয়নি। বিবাহের পরে তারা একে অপরের সাথে ভালোভাবে সম্পর্ক বজায় রেখে সুখে-শান্তিতে সংসার করে আসছিল। কিন্তু বিবাহের প্রায় ৫-৬ মাস পর মেয়ের মা (ভাইয়ের শাশুড়ি) বিভিন্নভাবে মেয়েকে কুপরামর্শ দিতে থাকে এবং মেয়ের ব্যাপারে কোন কথা তার মাকে বললে সে মেয়েকে কিছু না বলে উল্টা মেয়েকে গালিগালাজ করে এবং বলে তুই স্বামীর পাগল। যাইহোক এই সমস্ত বিষয়ের জের ধরে আমার ভাইয়ের সাথে তার শাশুড়ির দূরত্ব বাড়তে থাকে। (এখানে বলে রাখা ভালো মেয়েরা দুই বোন। বাবা বিদেশে থাকতেন। বড় মেয়েকে বিবাহের প্রস্তাব প্রথম দিয়েছিল, কিন্তু পছন্দ না হওয়ায় ছোট মেয়েকে বিবাহ দিয়েছে।) আস্তে আস্তে বিভিন্ন ইস্যুতে দূরত্ব বাড়তে থাকে। আমাদের বাসা এবং তাদের বাসা কাছাকাছি হওয়াতে তারা প্রায় প্রত্যেক সপ্তাহেই উভয়ে আসা-যাওয়া করত। কিন্তু তাদের মধ্যে দূরত্ব বৃদ্ধির কারণে প্রায় ২-২.৫ মাস আর আসা-যাওয়া ছিল না। একদিন আমার ছোট ভাই তার স্ত্রীর মোবাইলে টিকটক ভিডিওতে এক ছেলের ছবি দেখার পরে তাকে ঐ ছেলের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে তার স্ত্রী বলে এই ছেলের সাথে আমার বড় বোন (নিসা) এর বিবাহের কথাবার্তা চলতেছে। এর পূর্বে মেয়ের মা আমার ভাইকে বলেছিল নিসা তো শারীরিকভাবে অসুস্থ (পিরিয়ড হয় না, বাচ্চা হবে না) এমন কোন ছেলে দেখো যার স্ত্রী নাই কিন্তু বাচ্চা আছে। তাহলে হয়তো নিসা বাচ্চা না হওয়ার কষ্ট দূর হবে। যাইহোক, এক পর্যায়ে ঐ ছেলের সাথে আমার ভাইয়ের যোগাযোগ হয় এবং ঐ ছেলে আমার ভাইকে মেয়ের ব্যাপারে সব কিছু খুলে বলতে বলে এবং কারো কাছে বলবে না বলে ওয়াদা করে। তো আমার ভাই তাকে বলে, ভাই বিয়ে-শাদী আল্লাহর হুকুম, যদি আল্লাহর হুকুম হয় তবে হবে না হলে হবে না এবং ঐ মেয়ের শারীরিক অসুস্থতার কথা তাকে বলে। তার সাথে আমার ভাইয়ের কথা হয়েছে মেসেঞ্জারে। কিন্তু সে কিভাবে যেন ওই কথা রেকর্ড করে মেয়ের মাকে-বাবাকে পাঠায়। এ বিষয়কে কেন্দ্র করে তাদের সাথে আমার ভাইয়ের দূরত্ব আরো বেড়ে যায় এবং ঐ ছেলের প্রতি আমার ভাইয়ের মনে ক্ষোভ জন্মায়। পরে আমার ভাই ঐ ছেলের মোবাইল নং তার স্ত্রী, শাশুড়ি, শশুর সবার কাছে জানতে চায় কিন্তু তারা বলে ঐ ছেলের সাথে তাদের আর যোগাযোগ নাই এবং মোবাইল নংও নাই। কিন্তু এর আগে মেয়ের মা তাদের বাসায় একটা মাদ্রাসা খুলে এবং ঐ মাদ্রাসার ব্যানারে ২টা মোবাইল নং দেয়। একটা নাম্বার তাদের নিজস্ব অন্য নাম্বার কার জিজ্ঞাসা করলে বলে তার মেয়ের আগের মাদ্রাসার হুযুরের। যাইহোক, পরে আমার ভাই অনলাইনের মাধ্যমে বিভিন্নভাবে ঐ ছেলের মোবাইল নাম্বার খোঁজ করার একপর্যায়ে পায়। পাওয়ার পরে আবার সবাইকে জিজ্ঞাসা করে কিন্তু সবাই মিথ্যা বলে এবং মাদ্রাসার ব্যানারের নাম্বর এর সাথে তার নাম্বর মিলে যায়। যখন নাম্বার মিলে যায় তখন আমার ভাই তার স্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করলে সে স্বীকার করে। তখন আমার ভাই তাকে বলে, দেখো হাজারটা কারণ একত্রিত হলে মানুষের সংসার ভাঙে, তুমি ইতোমধ্যে দুইটা কারণ পূর্ণ করেছ। এক হল আমার সাথে মিথ্যা বলেছ এবং অন্যায় ভাবে তোমার মার পক্ষ নিয়েছো। তোমার জন্য আরো ৯৯৮ কারণ বাকি আছে। যাইহোক, এই বিষয়কে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে মনোমালিন্য ক্রমেই বেড়ে যায় এর মধ্যে মেয়ের বাবা বিদেশ থেকে আসে কিন্তু আমার ভাইকে কোন খবর দেয়নি এবং জানায় নি। তো মেয়ের বাবা দেশে আসার পর তারা আমাদের বাসায় মেহমান হিসেবে এসে খাওয়া-দাওয়া করে মেয়েকে তাদের বাসায় নিয়ে যায়। এর কিছুদিনপর (৪-৫ দিন) আমার ভাই তাদের বাসায় গিয়ে আমার বড় ভাইয়ের পরামর্শে কিছু না খেয়ে মেয়েকে আমাদের বাসায় নিয়ে আসে। আমাদের বাসায় নিয়ে আসার কয়েকদিন পর মেয়ের মা আমার ভাইয়ের মোবাইলে ফোন করে তার মেয়ের সাথে লাউড স্পিকারে কথা বলে এবং বলে যে শহীদুলকে (আমার ভাই) বলো সে যেহেতু ঐ ছেলেকে সবকিছু বলেছে, তাই আবার শহীদুল‌ই যাতে আবার সবকিছু ম্যানেজ করে ঐ ছেলের সাথে তার বড় মেয়ের বিবাহের ব্যবস্থা করে দেয়। তো এ কথা শুনে আমার ভাই ক্ষোভে পাশ থেকে বলে- এতকিছুর পরেও ঐ ছেলের সাথে বিবাহের ব্যবস্থা করব। তো কার বিবাহ দিব? তোমার বোনের না তোমার মায়ের? একথা মেয়ের মা শুনে আরো মনোক্ষুন্ন হয়। আমার ভাই স্বভাবে একটু রাগী প্রকৃতির। যাইহোক পরের দিন মেয়ের মা মেয়েকে ফোন করে আবার বলে ঐ ছেলের সাথে বিবাহ তো আমরা দিয়েই দিয়েছি। (কিন্তু জানামতে এখন পর্যন্ত তাদের মধ্যে কোন বিবাহ হয়নি।) শহীদুল আবার বিয়ের কি ব্যবস্থা করবে। এই কথা শুনে আমার ভাই উত্তেজিত হয়ে বলে যদি এত কিছুর পরেও ঐ ছেলের সাথে বিবাহ দিয়েই থাকে তাহলে তুই তালাক হয়ে যাবি এবং তোর মা এক জামাই নিয়ে থাকবে। একথা শুনে মেয়ে তার মাকে ফোন দিয়ে বলে শহীদুল তাকে তালাক দিয়েছে। তাকে যেন এখনই নিয়ে যায়। মেয়ের মা মেয়ের বাবা গ্রামে ছিল সেখান থেকে তাকে তাৎক্ষণিক নিয়ে এসে গত ৭/১০/২০২৩ তাং সন্ধ্যার পরে থানা থেকে পুলিশ নিয়ে এসে এবং তাদের ১০-১৫ জন লোকজন নিয়ে আমার ভাইয়ের সরকারি কোয়াটার এর বাসায় এসে হট্টগোল করে। ঐ সময় আমাদের বাসায় অনেক নিকট আত্মীয় মেহমান ছিল। আমার বৃদ্ধা মা এবং মেহমানরা সবাই মেয়েকে, মেয়ের মাকে অনেক অনুরোধ করেছে যাতে মেয়েকে না নিয়ে যায় এবং একপর্যায়ে আমার বড় ভাই এসেও তাদেরকে অনেক বুঝাইছে এবং পুলিশ অফিসারও তাদেরকে বুঝাইছে। আমার বড় ভাই এও বলছে যদি আপনাদের এই কোয়াটারের বাসায় থাকতে সমস্যা হয়, তাহলে আজকে রাতে আপনারা (মেয়ে, মা,বাবা) আমার বাসায় থাকবেন। আমার মেজ ভাই পুলিশ অফিসার ঢাকা থেকে আসতেছে, আসলে এর একটা সুন্দর ফায়সালা হবে সবাই মিলে পরামর্শ করে এবং মেজ ভাই ও মোবাইলে তাদের সাথে কথা বলে। কিন্তু তারা কারো অনুরোধ, বিনয়ের তোয়াক্কা না করে যে কোন মূল্যে মেয়েকে আমাদের বাসা থেকে নিয়ে যায়। এ ঘটনার পর আমরা পারিবারিকভাবে বসি এবং অনেক আলোচনা হয় এবং পরামর্শক্রমে তাদের মনোভাব জানার জন্য আপস মীমাংসায় তাদের বাড়িতে আমাদের পক্ষ থেকে তাদের এলাকার একজন ইমাম সাহেবকে পাঠানো হয়। কিন্তু তারা তাদের অবস্থানে অনড় থাকে এবং মেয়েকে তারা আর আমার ভাইয়ের সাথে দিবে না এবং মেয়েও আর আমার ভাইয়ের সাথে সংসার করবে না মর্মে স্পষ্ট ভাবে তাকে জানিয়ে দেয়। যাইহোক ঘটনার তিনদিন পর ১১/১০/২০২৩ বুধবার সালিশের জন্য দুই পক্ষই থানায় আসে। থানায় ওসি (তদন্ত) এবং আরো কিছু অফিসার এর মাধ্যমে দুই পক্ষ বসে। বৈঠকে প্রথমে ওসি মেয়ের মায়ের বক্তব্য শোনেন। মেয়ের মা সত্য-মিথ্যা মিলিয়ে অনেক কথা বলেছে। এরপর ওসি সাহেব মেয়েকে উদ্দেশ্য করে বলে দেখো, তোমার বয়স কম (১৭ বছর)। সবকিছু বোঝার ক্ষমতা তোমার হয়নি। তোমার কি এমন কোন কথা আছে যা তুমি সবার সামনে বলতে পারবা না। তুমি চাইলে একাকি আমাকে ওই কথা বলতে পারো, আর না থাকলে সবার সামনে বলতে পারো। তো মেয়ে বলেছে না আমার একাকী বলার কোন কথা নাই। সবার সামনে সে আমার ভাইয়ের নামে বিভিন্ন অপবাদ দিয়ে বলেছে তার সংসার সে আর কোনক্রমেই করতে চায় না। ওসি স্যার এবং উপস্থিত তাদের এলাকার কাউন্সিলর মহোদয় বিভিন্নভাবে তাদেরকে বলেছেন, যে সমস্যার কথা মেয়ে পক্ষ বলেছে, ভবিষ্যতে সেগুলো না থাকলে সংসার করা সম্ভব কিনা মেয়ে পক্ষ পরিষ্কার জানায় এখানে আর সংসার করা সম্ভব কি না ? মেয়ে পক্ষ পরিষ্কার জানায় এখানে আর সংসার করা সম্ভব না। কাউন্সিলর মহোদয় দুই পক্ষকে এও বলেছেন এত গরম গরম মানে ঘটনার তিন দিনের মাথায় আপনাদের বসা উচিত হয়নি। যাইহোক, এরপর ওসি সাহেব আমার মেজ ভাইয়ের বক্তব্য শোনেন এবং আমার ভাই শহীদুলের বক্তব্যও শোনেন। বক্তব্যে তারাও সত্য-মিথ্যা মিলিয়ে কিছু কথা বলেছে। বৈঠকের এক পর্যায়ে আমার মেজ ভাই রুম থেকে বের হয়ে আমার মায়ের সাথে কথা বলে এসে জানায় যা হয়েছে সবকিছু ভুলে গিয়ে মেয়ের বাবা যদি মেয়েকে আমাদেরকে দেয় তাহলে আমরা নিয়ে যাব। কিন্তু তারা তাদের অবস্থানে অনড়। কোনক্রমেই তারা তাদের মেয়েকে দিবে না এবং মেয়েও আসবে না। তো বৈঠকে উপস্থিত ঐ ইমাম সাহেবের (যে পূর্বে মধ্যস্থতার জন্য মেয়ের বাড়িতে গিয়েছিল) কাছে এ ব্যাপারে এখন কি করণীয় জানতে চাইলে সে বলল এখন তাহলে খোলা তালাক দিতে হবে এবং আমার ভাই শহীদুলকে সবাই চাপ দিলে সে বলল না আমি তো আমার স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার জন্য আনি নাই। কিন্তু তারা তো মেয়েকে দিবেই না, এবং মেয়েও আসবে না। কিন্তু আমরা নিতে চাই। এ অবস্থার মধ্যে বৈঠকে একটা খারাপ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং আমার ভাই শহীদুলকে তালাক দেওয়ার জন্য আমাদের পক্ষ থেকে চাপ দেওয়া হয় কিন্তু সে রাজি হয়নি। যাইহোক, ঘটনার এ পর্যায়ে আমার ভাই শহীদুল বলে মেয়ের সাথে সে একাকী কিছু কথা বলতে চায় এবং এরপর সে তার সিদ্ধান্ত জানাতে চায় আমাদের পক্ষ থেকে সবাই বলে যেখানে সে সংসারই করবে না সেখানে আর কি কথা ? কিন্তু আমি এবং আমার এক আত্মীয় এর বিরোধিতা করি এবং কথা বলার সুযোগ দেওয়ার জন্য ওসি স্যারকে বলি। তো ওসি স্যার রুম থেকে দুই পক্ষের সবাইকে বের করে দিয়ে ছেলেমেয়েকে একেবারে একাকী না দিয়ে, ওসি একজন দারোগা (যাকে নিয়ে মেয়েকে বাসা থেকে তুলে এনেছিল) এবং ছেলে, মেয়ে এই মোট ০৪ জন রুমে ছিল। সেখানে আমার ভাই শহীদুল মেয়ের সাথে কথাবার্তা বলেছে তাকে জিজ্ঞাসা করেছে “তোমার-আমার ব্যক্তিগত কোন কারণে আমাদের মধ্যে কি কোন সমস্যা হয়েছে, যার কারণে কোন সালিশ হতে পারে”? মেয়ে বলেছে না। “তাহলে আমাদের সংসার ভাঙবে কেন”? যাইহোক, ৪-৫ মিনিট পরে ওসি স্যার আবার দুই পক্ষকে ভিতরে ডাকছেন এবং সবার সামনে আবার মেয়েকে জিজ্ঞাসা করেছে সংসার করবে কিনা ? সে আবার বলেছে না সে আর সংসার করবে না। তো এই অবস্থার মধ্যে আমার ভাই শহীদুল সবার সামনে রাগে ক্ষোভে মেয়েকে বলেছে “আমি তোমাকে এক তালাক, দুই তালাক, তিন তালাক প্রদান করলাম এবং মেয়ে বলেছে আমি কবুল করলাম। এরপর দুই বার বলেছে এবং মেয়ে দুইবার কবুল করলাম বলেছে। তারপর স্ট্যাম্পে লিখিত হয়ে ছেলে-মেয়ে এবং সাক্ষীদের স্বাক্ষর করে সব শেষ করে স্ট্যাম্পের কপি দুই পক্ষ নিয়ে যার যার মত চলে যায়। এবং ঘটনার একদিন পর আমার ভাই শহীদুল অনেক অনুশোচনা করতে থাকে এবং অনেক কান্নাকাটি করতে থাকে এবং বলে যে তৃতীয় পক্ষের কারণে আমার সংসারে সমস্যা হল। পরে সে মেয়ের মাকে ফোন দিয়ে অনেক কান্নাকাটি করে এবং তার মেয়েকে তালাক দেয়নি বলে। সে বলতেছে- আমি দ্বীল থেকে তালাক দেইনি। পরিস্থিতির কারণে চাপে পড়ে (By force) আমার দ্বারা তালাক দেওয়ানো হয়েছে। আমাদের বাসা থেকে যেদিন মেয়েকে নিয়ে যায় ঐদিন সকাল থেকেই মেয়ে নাকি অসুস্থ ছিল (পিরিয়ড/হায়েজ) শুরু হয়েছিল এবং থানায় বৈঠকের দিনও পিরিয়ড চলতেছিল। কোন কোন আলেম নাকি আমার ভাইকে বলেছে তালাক তো একটা সম্মানিত আমল, পিরিয়ড অবস্থায় তালাক দিলে তালাক হয় না। আবার এক বৈঠকে যতবারই তালাক দেওয়া হোক না কেন, সেটা নাকি এক তালাক হিসেবে গণ্য হবে এবং তিন তালাকের জন্য নাকি তিন হায়েজ পর্যন্ত সময় দিতে হবে ইত্যাদি ইত্যাদি নানা রকম কথা। তো যাইহোক বর্তমান পরিস্থিতি এরকম যে ছেলে-মেয়ে উভয়ই পরস্পরের সাথে কথা বলে এবং মেয়ের মা, পরিবার আমার ভাইয়ের সাথে কথা বলে। আমার ভাই শহীদুল মেয়েকে আবার আনতে চায় এবং মেয়েও আসতে চায় কিন্তু আমার ভাই মেয়েদের থেকে আনার ব্যাপারে বেশি আগানো। সার্বিক দিক বিবেচনায় এমতাবস্থায় ইসলামী শরীয়তের কি বিধান ? তাদের সাথে পুনরায় সংসার হওয়ার কোন সহজ-সুন্দর রাস্তা ইসলামী শরীয়তে আছে কি ? অথবা এহেন পরিস্থিতিতে উভয়পক্ষের করণীয় কি ? মেহেরবানী করে জানালে বড়ই উপকৃত হব।

মোঃ জহিরুল ইসলাম
গাবখান, ঝালকাঠি
01758320707
jahir.vet@gmail.com
মোঃ শহীদুল ইসলাম
01766819161

الجواب باسم ملهم الصدق والصواب

প্রিয় দ্বীনি ভাই, তালাক অত্যন্ত স্পর্শকাতর একটি বিষয়। কেউ এই ক্ষমতার অপব্যবহার করলে কিংবা ভুল পন্থায় তা প্রয়োগ করলে সে গুনাহগার হবে বটে; কিন্তু তালাকও কার্যকর হবে। তাই প্রত্যেক বিবেকবানের দায়িত্ব হলো, তালাকের ব্যপারে সতর্কতার সাথে বিরত থাকা। বলাবাহুল্য, একই মজলিসে তিন তালাক দেওয়া ঠিক নয়, কিন্তু কেউ এমনটি করলে তালাক কার্যকর হয়ে যাবে। যদিও তা রাগের মাথায় হোক কিংবা চাপের সম্মুখীন হয়ে হোক। আর তালাক কেউ খুশি মনে দেয় না, বরং রাগান্বিত হয়েই দিয়ে থাকে। অতএব, প্রশ্নের বিবরণ অনুযায়ী স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে “আমি তোমাকে এক তালাক, দুই তালাক, তিন তালাক প্রদান করলাম” বলার দ্বারা তিন তালাক পতিত হয়েছে এবং স্বামী-স্ত্রীর বৈবাহিক সম্পর্ক নষ্ট হয়ে গেছে এবং একে অপরের জন্য হারাম হয়ে গেছে। এমতাবস্থায় স্বামী-স্ত্রী পরষ্পরের দেখা-সাক্ষাত, কথা-বার্তা, মেলামেশা তথা স্বামী-স্ত্রীসুলভ যে কোন আচরণ নাজায়েজ ও হারাম। পরিশেষে, উক্ত মহিলার সাথে সংসার করা সম্পূর্ণ নাজায়েজ। তবে যদি তার অন্য পুরুষের সাথে বিবাহের পর সহবাসও হয়, অতঃপর দ্বিতীয় স্বামী মারা যায় বা স্বেচ্ছায় তালাক দেয় বা ধর্মান্তরিত হয়ে যায় তাহলে ইদ্দত পালন শেষে শরীয়তসম্মত পন্থায় নতুনভাবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে পুনরায় ঘর সংসার করতে পারবে। জ্ঞাতব্যঃ “হায়েজ (পিরিয়ড) অবস্থায় তালাক দিলে তালাক পতিত হবে না বা এক বৈঠকে যতবার‌ই তালাক দেওয়া হোক না কেন সেটা এক তালাক হিসেবে গণ্য হবে” উক্ত বক্তব্য সঠিক নয়।

الأدلة الشرعية

(١) فَاِنۡ طَلَّقَهَا فَلَا تَحِلُّ لَهٗ مِنۡۢ بَعۡدُ حَتّٰی تَنۡکِحَ زَوۡجًا غَیۡرَهٗ ؕ فَاِنۡ طَلَّقَهَا فَلَا جُنَاحَ عَلَیۡهِمَاۤ اَنۡ یَّتَرَاجَعَاۤ اِنۡ ظَنَّاۤ اَنۡ یُّقِیۡمَا حُدُوۡدَ اللّٰهِ ؕ وَ تِلۡکَ حُدُوۡدُ اللّٰهِ یُبَیِّنُهَا لِقَوۡمٍ یَّعۡلَمُوۡنَ ﴿سورة البقرة: ٢٣٠﴾
(٢) وَ الۡمُطَلَّقٰتُ یَتَرَبَّصۡنَ بِاَنۡفُسِهِنَّ ثَلٰثَۃَ قُرُوۡٓءٍ ؕ وَ لَا یَحِلُّ لَهُنَّ اَنۡ یَّکۡتُمۡنَ مَا خَلَقَ اللّٰهُ فِیۡۤ اَرۡحَامِهِنَّ اِنۡ کُنَّ یُؤۡمِنَّ بِاللّٰهِ وَ الۡیَوۡمِ الۡاٰخِرِ ؕ وَ بُعُوۡلَتُهُنَّ اَحَقُّ بِرَدِّهِنَّ فِیۡ ذٰلِکَ اِنۡ اَرَادُوۡۤا اِصۡلَاحًا ؕ وَ لَهُنَّ مِثۡلُ الَّذِیۡ عَلَیۡهِنَّ بِالۡمَعۡرُوۡفِ ۪ وَ لِلرِّجَالِ عَلَیۡهِنَّ دَرَجَۃٌ ؕ وَ اللّٰهُ عَزِیۡزٌ حَکِیۡمٌ ﴿سورة البقرة: ٢٢٨﴾
(٣) عن واقع بن سحبان قال: سئل عمران بن حصين عن رجل طلق إمرأته ثلاثا في مجلس قال: أثم بربه وحرمت عليه امرأته – (المصنف لابن أبي شيبة: ۹/۵۱۹)
(٤) عن علقمة عن عبد الله: أنه سئل عن رجل طلق امرأته مائة تطليقة قال: حرمتها ثلاث وسبعة وتسعون عدوان – (المصنف لابن أبي شيبة: ٩/٥٢١)
(٥) عن مجاهد قال كنت عند ابن عباس فجاء رجل فقال إنه طلق امرأته ثلاثا. قال فسكت حتى ظننت أنه رادها إليه ثم قال ينطلق أحدكم فيركب الحموقة ثم يقول يا ابن عباس يا ابن عباس وإن الله قال (ومن يتق الله يجعل له مخرجا) وإنك لم تتق الله فلم أجد لك مخرجا عصيت ربك وبانت منك امرأتك – (سنن أبي داود: ۲۱۹۹)
(٦) عن نافع، قال: كان ابن عمر، إذا سئل عن الرجل طلق امرأته وهي حائض—— وأما إن طلقها ثلاثا، فقد عصيت الله فيما أمرك به من طلاق امرأتك وبانت منك امرأتك – (صحیح مسلم : ۳۵۵۷)
(٧) عن عائشة رضي الله عنها أن رجلا طلق امرأته ثلاثا فتزوجت فطلق فسئل النبي صلى الله عليه وسلم أتحل للأول؟ قال: لا حتى يذوق عسيلتها كما ذاق الأول. (صحيح البخاري ٧٩١/٢ رقم : ٥٢٦١)
(٨) “و ذهب جمهور الصحابة والتابعين ومن بعدهم من أئمة المسلمين إلى أنه يقع ثلاث.” – (فتاویٰ شامی: ٢٣٣/٣)
(٩) “وَقَدِ اخْتَلَفَ الْعُلَمَاءُ فِيمَنْ قَالَ لِامْرَأَتِهِ: أَنْتِ طَالِقٌ ثَلَاثًا، فَقَالَ الشَّافِعِيُّ وَ مَالِكٌ وَ أَبُو حَنِيفَةَ وَأَحْمَدُ وَجَمَاهِيرُ الْعُلَمَاءِ مِنَ السَّلَفِ وَ الْخَلَفِ: يَقَعُ الثَّلَاثُ” – (شرح النووي على مسلم: ٤٧٤/١، ط: قدیمی)
(١٠) “(وأما البدعي) فنوعان بدعي لمعنى يعود إلى العدد وبدعي لمعنى يعود إلى الوقت (فالذي) يعود إلى العدد أن يطلقها ثلاثًا في طهر واحد أو بكلمات متفرقة أو يجمع بين التطليقتين في طهر واحد بكلمة واحدة أو بكلمتين متفرقتين فإذا فعل ذلك وقع الطلاق وكان عاصيًا” – (فتاوی عالمگیری: کتاب الطلاق، الطلاق البدعي، ٣٤٩/١، ط: رشيديه)
(١١) وَاعْلَمْ أَنَّ الْبِدْعِيَّ عَلَى نَوْعَيْنِ بِدْعِيٌّ لِمَعْنًى يَعُودُ إلَى الْعَدَدِ وَبِدْعِيٌّ يَعُودُ إلَى الْوَقْتِ وَقَدْ بَدَأَ بِالْأَوَّلِ فَقَالَ (وَبِدْعِيُّهُ) أَيْ بِدْعِيُّ الطَّلَاقِ عَدَدًا (تَطْلِيقُهَا ثَلَاثًا، أَوْ ثِنْتَيْنِ بِكَلِمَةٍ وَاحِدَةٍ) مِثْلُ أَنْ يَقُولَ أَنْتِ طَالِقٌ ثَلَاثًا، أَوْ ثِنْتَيْنِ وَهُوَ حَرَامٌ حُرْمَةً غَلِيظَةً وَكَانَ عَاصِيًا لَكِنْ إذَا فَعَلَ بَانَتْ مِنْهُ – (مجمع الأنهر في شرح ملتقى الأبحر: كتاب الطلاق، الطلاق البدعي على نوعين: ٣٨٢/١)
(١٢) وطلاق البدعة: أن يطلقها ثلاثاً أواثنتين بكلمة واحدة، أو يطلقها ثلاثاً في طهر واحد؛ لأن الأصل في الطلاق الحظر، لما فيه من قطع الزواج الذي تعلقت به المصالح الدينية والدنيوية، والإباحة إنما هي للحاجة إلى الخلاص، ولا حاجة إلى الجمع في الثلاث، أو في طهر واحد؛ لأن الحاجة تندفع بالواحدة، وتمام الخلاص في المفرق على الأطهار، والزيادة إسراف، فكان بدعة. فإذا فعل ذلك وقع الطلاق، وبانت المرأة منه، وكان آثماً عاصياً – (الفقه الإسلامي وأدلته للزحيلي: الطلاق الحسن، ٦٩٤٩/٩، ط: الشاملة)
(١٣) والبدعي: أن يطلقها ثلاثًا بكلمة واحدة أو ثلاثًا في طهر واحد. فإذا فعل ذلك وقع الطلاق وكان عاصيًا – (بذل المجهود في حل سنن أبي داود: أول كتاب الطلاق، باب في طلاق السنة، ١٣٧/٨)
(١٤) وطلاق البدعة: إن يطلقها ثلاثا بكلمة واحدة أو ثلاثا في طهر واحد فإذا فعل ذلك وقع الطلاق وبانت منه وكان عاصيا – (مختصر القدوري: كتاب الطلاق: ١٥٤)
(١٥) وإن كان الطلاق ثلاثا في الحرة أو اثنتين في الأمة لم تحل له حتى تنكح زوجا غيره نكاحا صحيحا ويدخل بها ثم يطلقها أو يموت عنها – (مختصر القدوری: ١٥٩/١، ط: دار الکتب العلمیة)
(١٦) ٦ – ذهب الفقهاء إلى أن من طلق زوجته طلقة رجعية أو طلقتين رجعيتين جاز له إرجاعها في العدة۔۔۔أما إذا طلق زوجته ثلاثا، فإن الحكم الأصلي للطلقات الثلاث هو زوال ملك الاستمتاع وزوال حل المحلية أيضا، حتى لا يجوز له نكاحها قبل التزوج بزوج آخر، لقوله تعالى: {فإن طلقها فلا تحل له من بعد حتى تنكح زوجا غيره} – (الموسوعة الفقهیة الکویتیة: ٢٥٥/١٠، ط: دار السلاسل)
(١٧) وذهب جماهير العلماء من التابعين ومن بعدهم، منهم: الأوزاعي والنخعي والثوري وأبو حنيفة وأصحابه والشافعي وأصحابه وأحمد وأصحابه وإسحاق وأبو ثور وأبو عبيدة وآخرون كثيرون رحمهما الله تعالى على من طلق امرأته ثلاثا وقعن، ولكنه يأثم – (عمدة القاري ، كتاب الطلاق / باب من أجاز طلاق الثلاث ٢٠ / ٢٣٣ بيروت، كذا في فتح القدير / باب طلاق السنة ٤٦٩/٣ مصطفى البابي الحلبي مصر)
(١٨) عن ابن عمر رضي الله عنهما قال : طلاق الكرة جائز. (المصنف لعبد الرزاق: ٤١٠/٦، رقم: ١١٤٢١)
(١٩) عن عمر بن عبد العزيز يقول : طلاق السكران والمكره جائز. (شرح معاني الآثار ٤٦٧/٢ رقم : ٤٥٥٧)
(٢٠) ويقع طلاق كل زوج بالغ عاقل، ولو تقديرا بدائع، ليدخل السكران ولو عبدا أو مكرها، فإن طلاقه صحيح. (الدر المختار مع الشامي: ٤٣٨/٤، ط: زكريا، احسن الفتاوى: ١٦٤/٥، فتاوی محمودیه: ١١٨/٤)

(٢١) سوال: میں یہ جاننا چاہتا ہوں کہ کیا ایک مجلس میں تین بار طلاق بول دینے سے طلاق ہوجاتی ہے؟ یا تین بار ایک طلاق مانا جاتا ہے؟ مجھے طلاق کے متعلق بتائیں! جواب: ایک مجلس میں تین مرتبہ طلاق کے الفاظ کہہ دینے سے تین طلاق واقع ہوجاتی ہے ۔ یہ حکم قرآن پاک ،احادیث نبویہ سے ثابت ہے۔ جمہور صحابہ تابعین کا اجماع ہے، اور تین طلاق ہونے پر ائمہ اربعہ کا اتفاق ہے۔ اس سلسلے میں ایک تفصیلی فتویٰ منسلک کیا جارہا ہے جس میں بالتفصیل دلائل ذکر کئے گئے ہیں ۔ از: زین الاسلام قاسمی الہ آبادی 02/08/1437 الجواب صحیح: فخر الاسلام عفی عنہ،وقار علی غفرلہ مفتیانِ دارالافتاء، دارالعلوم دیوبند ————————- باسمہ تعالی کیا فرماتے ہیں علمائے دین و مفتیان شرع متین مسئلہ ذیل کے بارے میں : ایک شخص نے اپنی بیوی کو ایک ہی مرتبہ میں تین طلاقیں دے دیں، تو کیا اس صورت میں طلاقیں تین ہی واقع ہونگی یا ایک؟ جب کہ ایک فرقہ تین طلاقوں کو ایک ہی شمار کرتا ہے، لہذ آں حضور والا سے مأدبانہ درخواست ہے کہ صورت مسئولہ میں قرآن و حدیث کے مطابق تشفی بخش جواب تحریر فرماکر ممنون فرمائیں۔ بینوا توجروا المستفتی: محمد شاہنواز مظفر نگری ۱۵/رجب المرجب ۱۴۳۷ھ بسم اللہ الرحمن الرحیم الجواب وباللہ التوفیق حامداً و مصلیاً و مسلما ایک مجلس میں دی گئی تین طلاقیں تین ہی واقع ہوتی ہیں اور اس کے بعد بیوی مغلظہ بائنہ ہوکر شوہر پر حرام ہو جاتی ہے، حلالہ شرعی کے بغیر اس کا پہلے شوہر سے نکاح جائز نہیں ہوتا،امام ابو جعفر الطحاوی، علامہ نووی، حافظ ابن حجر عسقلانی، علامہ بدر الدین عینی،علامہ ابن رشد المالکی، علامہ ابن الہمام الحنفی، علامہ جلال الدین سیوطی، علامہ آلوسی الحنفی، قاضی محمد بن علی الشوکانی، مشہور غیر مقلد عالم مولانا شمس الحق اور اِن کے علاوہ بہت سے محقق علماء نے حضرات صحابہ کرام، تابعینِ عظام ، ائمہ اربعہ اور سلف و خلف کے جمہور علماء، مجتہدین، محدثین کا یہی مسلک ذکر کیا ہے۔ ( شرح معانی الآثار:۳/۵۵،کتاب الطلاق، بابُ الرجل یطلق امرأتہ ثلاثاً معاً، رقم : ۴۴۷۵، شرح النووي علی مسلم:۱۰/۷۰، کتاب الطلاق، باب طلاق الثلاث، ط: دار احیاء التراث العربي، بیروت، عمدة القاری:۲۰/۲۳۳، کتاب فضائل القرآن، باب من جوز طلاق الثلاث، ط: دار احیاء التراث العربي، بیروت، فتح الباري:۹/۳۶۲، کتاب فضائل القرآن، باب من جوز طلاق الثلاث، ط:دار المعرفة، بیروت، بدایة المجتہد: ۳/۸۴،کتاب الطلاق، الباب الأول، ط: دار الحدیث، القاہرة، فتح القدیر:۳/۴۶۹، کتاب الطلاق، ط: دار الفکر، عمدة الأثاث في حکم الطلقات الثلاث، ص: ۳۳۔۔۳۷ ) ٍ ان میں سے کسی کے نزدیک بھی ایک مجلس میں دی گئی تین طلاق ایک واقع نہیں ہوتی،یہی مسلک صحیح اور قرآن و حدیث کے صریح نصوص سے ثابت ہے،جو لوگ ایک مجلس میں دی گئی تین طلاق کو ایک قرار دیتے ہیں، اُن کا مسلک نہایت کمزور اور قرآن و حدیث کے صریح نصوص کے خلاف ہے، اس کے مطابق عمل کرنا شرعا جائز نہیں ہے، اُس مسلک پر عمل کرنے کی وجہ سے مطلقہ عورت حلال نہیں ہوتی ہے، وہ بدستور اپنے شوہر پر حرام رہتی ہے، لہذا صورت مسئولہ میں اگر ”شخص مذکور “ نے اپنی بیوی کو ایک ہی مرتبہ میں تین مرتبہ طلاق دے دی ہے، تو اُس پر تینوں طلاقیں واقع ہوگئیں اور وہ اپنے شوہر پر حرام ہوگئی ، اب دونوں کے مابین حلالہ شرعی کے بغیر دوبارہ نکاح کی کوئی صورت نہیں ہے۔ ذیل میں جمہور کے مسلک کے دلائل ذکر کیے جاتے ہیں:
(۱) اللہ تعالی کا ارشاد ہے :فان طَلَّقَہَا، فَلا تَحِلُّ لَہ مِن بَعدُ حَتّٰی تَنکِحَ زَوجاً غَیرَہ ۔ اِس آیت سے پہلے”الطلاق مرتان الخ“ کا ذکر ہے، پوری آیت کا حاصل یہ ہے کہ اللہ تعالی فرمارہے ہیں کہ اگر دوطلاق دینے کے بعد فوری طور پر تیسری طلاق بھی دیدی، تو اب وہ عورت طلاق دینے والے مرد کے لیے اُس وقت تک حلال نہیں ہوگی جب تک کہ وہ شرعی ضابطے کے مطابق دوسرے مرد سے نکاح نہ کر لے اور پھر وہ دوسرا شخص نکاح و ہم بستری کے بعد اس کو طلاق نہ دیدے، تو عدت کے بعد یہ عورت پہلے شوہر کے لیے حلال ہوجائے گی۔ یہ آیت ایک مجلس میں دی گئی تین طلاق کے تین واقع ہونے کے بارے میں صریح ہے ،ا ِس لیے کہ اس آیت میں دو طلاق کے بعد اللہ تعالی نے لفظ ”فاء“ کے ذریعے تیسری طلاق کا ذکر کیا ہے، جس کا ظاہری اور صاف مطلب یہ کہ اگر کوئی شخص دو طلاق دینے کے فوری بعد ایک ہی مجلس میں تیسری بھی طلاق دیدے، تو تینوں طلاقیں واقع ہوجائیں گی، چنانچہ حضرت امام شافعی اِس آیت سے تین طلاق کے واقع ہونے پر استدلال کرتے ہوئے فرماتے ہیں: ”فالقرآن واللّٰہ أعلم یدل علی أن من طلق زوجة لہ دخل بہا أو لم یدخل بہا ثلاثاً، لم تحل لہ حتی تنکح زوجا غیرہ“۔ (کتاب الأم: ۵/۱۹۶، أبواب متفرقة في النکاح والطلاق، طلاق التي لم یدخل بہا، ط: دار المعرفة، بیروت )” یعنی: قرآن کریم کا ظاہر اس بات پر دلالت کرتا ہے کہ جس شخص نے اپنی بیوی کو تین طلاقیں دیدیں، خواہ اُس نے اس سے ہم بستری کی ہو یا نہ کی ہو، تو وہ عورت اُس شخص کے لیے حلال نہیں ہوگی جب تک کہ وہ کسی مرد سے نکاح نہ کر لے“ حضرت ابن عباس رضی اللہ عنہ، امام بیہقی ، ابن حزم ظاہری، علامہ قسطلانی، علامہ عبد الحی لکھنوی اور غیر مقلد عالم مولانا ابراہیم صاحب سیالکوٹی نے بھی اِس آیت سے ایک مجلس میں تین طلاق کے تین واقع ہونے پر استدلال کیا ہے۔ ( السنن الکبری :۷/۵۴۴، باب ماجاء فيامضاء الطلاق الثلاث وان کن مجموعات، ط: دار الکتب العلمیة، بیروت، لبنان، المحلی بالآثار لابن حزم:۹/۳۹۴،کتاب الطلاق، ط: دار الفکر، بیروت۔عمدة الاثاث في حکم الطلقات الثلاث، ص: ۵۲، ۵۳، ط:مکتبہ صفدریہ، پاکستان،بحوالہ مجموعة الفتاوی:۴/۴۹۵، اخبار اہل حدیث، ۱۵ نومبر ۱۹۲۹ء، ارشاد الساری للقسطلانی:۸/۱۵۷،ط:مصر )
(۲) عن عائشة رضي اللّٰہ عنہا أن رجلاً طلق امرأتہ ثلاثاً، فتزوجت، فطلق، فسئل النبي صلی اللّٰہ علیہ وسلم أتحل للأول؟ قال: لا حتی یذوق عُسَیلتہا کما ذاق الأولُ۔ (البخاري،کتاب الطلاق، باب من أجاز طلاق الثلاث، رقم: ۵۲۶۱ ) حضرت عائشہ رضی اللہ عنہا سے روایت ہے کہ ایک شخص نے اپنی بیوی کو تین طلاقیں دیں ، اُس عورت نے دوسرے شخص سے نکاح کر لیا ، دوسرے شخص نے بھی اس کو طلاق دیدی ، تو حضور صلی اللہ علیہ وسلم سے دریافت کیا گیا کہ یہ عورت پہلے شخص کے لیے حلال ہوگئی ؟ آپ صلی اللہ علیہ وسلم نے فرمایا : نہیں!جب تک پہلے شوہر کی طرح دوسرا شوہر بھی اس کا ذائقہ نہ چکھ لے ( یعنی صحبت نہ کر لے )۔ اِس حدیث میں” طَلَّقَ امرأتہ ثلاثاً “کے جملے سے یہ بات صراحتا معلوم ہوتی ہے کہ اِس حدیث میں تین طلاقیں اکھٹی اور ایک مجلس میں دینے کا ذکر ہے،، جس میں آپ صلی اللہ علیہ وسلم نے تینوں طلاق کے واقع ہونے کا فیصلہ فر مایا ہے، چنانچہ حافظ ابن حجر اور علامہ بدر الدین عینی رحمہما اللہ نے بھی اِس حدیث کا یہی مطلب بیان کیا ہے اور امام بخاری رحمة اللہ علیہ نے بھی” صحیح بخاری“ میں ، نیز امام بیہقی نے ”السنن الکبری “میں ایک مجلس کی تین طلاق کے وقوع پر اسی حدیث سے استدلال کیا ہے، امام بخاری نے اِس حدیث پر یہ باب قائم کیا ہے، ”باب من أجاز طلاق الثلاث“ اور امام بیہقی نے یہ باب قائم کیا ہے: ”باب ما جاء في امضاء الطلاق الثلاث وان کن مجموعات“.
(۳) عن عائشة رضي اللّٰہ عنہا أنہا سألت عن الرجل یتزوج المرأة، فیطلقہا ثلاثاً، فقالت: قال رسول اللّٰہ صلی اللّٰہ علیہ و سلم : لا تحلُّ للأول حتی یذوق الآخر عسیلتہا و تذوق عسیلتہ۔ (صحیح مسلم،با ب لا تحل المطلقة ثلاثاً حتی تنکح زوجاً غیرہ، رقم:۱۴۳۳، السنن الکبری للبیہقي،واللفظ لہ، کتاب الرجعة، باب نکاح المطلقة ثلاثاً، رقم: ۱۵۱۹۳) حضرت عائشہ رضی اللہ عنہا سے سوال کیا گیا کہ کوئی شخص ایک عورت سے نکاح کرتا ہے ،اس کے بعد اُس کو تین طلاق دے دیتا ہے ؟ انہوں نے فرمایا کہ حضور صلی اللہ علیہ وسلم نے ارشاد فرمایا کہ وہ عورت اُس شخص کے لیے حلال نہیں ہے جب تک کہ دوسرا خاوند اُس کا ذائقہ نہ چکھ لے (صحبت نہ کرلے ) ، جس طرح کہ پہلا خاوند اُس کا ذائقہ چکھ چکا ہے ( صحبت کر چکا ہے) ۔ اس حدیث میں بھی ” ثلاثاً“ کا لفظ اِس بارے میں صریح ہے کہ اگر کوئی شخص ایک مجلس میں تین طلاق دیدے، تو تینوں طلاقیں واقع ہوکر بیوی مغلظہ بائنہ ہوجاتی ہے، یہی روایت دار قطنی میں اس طرح آئی ہے: قال رسول اللّٰہ صلی اللّٰہ علیہ وسلم: اذا طلق الرجل امرأتہ ثلاثاً، لم تحل لہ حتی تنکح زوجاً غیرہ، ویذوق کل واحد منہما عسیلة صاحبہ۔ ( سنن الدار قطني، کتاب الطلاق، رقم: ۳۹۷۷ ) یعنی :آپ صلی اللہ علیہ وسلم نے ارشاد فرمایا کہ جب مرد اپنی بیوی کو تین طلاق دیدے، تو وہ اُس کے لیے حلال نہیں ہوگی جب تک کہ دوسرے مرد سے نکاح کر کے دونوں ایک دوسرے کا ذائقہ نہ چکھ لیں۔
(٤) امام بخاری نے صحیح بخاری میں حضرت عویمر عجلانی رضی اللہ عنہ کے لعان کا واقعہ نقل کیا ہے، اُس واقعے میں ہے: ”کذبت علیہا یا رسول اللّٰہ ان أمسکتہا، فطلقہا ثلاثاًقبل أن یأمرہ رسول اللّٰہ صلی اللّٰہ علیہ وسلم “ یعنی: لعان کے بعد حضرت عویمر رضی اللہ عنہ نے حضور اقدس صلی اللہ علیہ وسلم سے عرض کیا : یا رسول اللہ!اگر اب بھی میں اس عورت کو اپنے گھر میں رکھوں ، تو گویا میں نے اُس پر جھوٹا بہتان باندھا، یہ کہہ کر انھوں نے حضور اقدس صلی اللہ علیہ وسلم کے حکم دینے سے پہلے ہی تین طلاقیں دے دیں۔ علامہ کوثری فرماتے ہیں: کسی بھی روایت میں یہ مذکور نہیں ہے کہ آپ صلی اللہ علیہ وسلم نے اُن پر نکیر فرمائی ہو ۔ اس سے صاف معلوم ہوا کہ وہ تینوں طلاقیں واقع ہو گئیں، اور لوگوں نے بھی اس سے تین طلاق کا وقوع سمجھا ، اگر لوگوں کا سمجھنا غلط ہوتا ، تو حضور اقدس صلی اللہ علیہ وسلم ضرور اُن کی اصلاح فرماتے اور لوگوں کو غلط فہمی میں نہ رہنے دیتے ، پوری امت نے اس روایت سے یہی سمجھا ہے ، حتی کہ علامہ ابن حزم نے بھی یہی مطلب سمجھا ہے ، چنانچہ انھوں نے فرمایا: ”انما طلقہا و ہو یقدر أنہا امرأتہ ولو لا وقوع الثلاث مجموعة لأنکر ذلک علیہ“۔ ( فقہی مقالات:۳/۱۹۱، بحوالہ الاشفاق علی أحکام الطلاق، ص: ۲۹) یعنی: اگر دفعة ایک مجلس میں تین طلاق کا شرعا اعتبار نہیں ہوتا اور تین طلاقیں ایک طلاق تصور کی جاتی ، تو اس سلسلے میں آپ صلی اللہ علیہ وسلم ضرور حکم ارشاد فرماتے اور کسی طرح خاموشی اختیار نہیں فرماتے، جب آپ نے اس پر سکوت اختیار کیا ، تو یہ اس بات کی یقینی دلیل ہے کہ گویا آپ نے تین طلاق کو نافذ قرار دیا، اس کی تایید ابو داوٴد میں حضرت سہل بن سعد رضی اللہ عنہ کی روایت سے بھی ہوتی ہے، جس کے الفاظ یہ ہیں: ” عن سہل بن سعد قال :فطلقہا ثلاث تطلیقات عند رسول اللّٰہ صلی اللّٰہ علیہ وسلم ، فأنفذہ رسول اللّٰہ صلی اللّٰہ علیہ وسلم الخ“۔ ( سنن أبی داوٴد، باب في اللعان، رقم: ۲۲۵۰ ) یعنی: ”حضرت عویمر رضی اللہ عنہ نے آپ صلی اللہ علیہ وسلم کے سامنے اپنی بیوی کو تین طلاقیں دے دیں اور آپ نے اُن کو نافذ کردیا“۔
(۵) عن محمود بن لبید قال:أخبر رسول اللّٰہ صلی اللّٰہ علیہ وسلم عن رجل طلق امرأتہ ثلاث تطلیقات جمیعاً، فقام غضباناً۔ ثم قال: أیلعب بکتاب اللّٰہ وأنا بین أظہرکم ،حتی قام رجل وقال: یا رسول اللّٰہ ألا أقتلہ؟ ( سنن النسائي، کتاب الطلاق، الثلاث المجموعة و مافیہ من التغلیظ، رقم: ۳۴۰۱ ) حضرت محمود بن لبید رضی اللہ عنہ فرماتے ہیں کہ حضور صلی اللہ علیہ وسلم کو یہ اطلاع ملی کہ ایک شخص نے اپنی بیوی کو اکھٹی تین طلاقیں دے دیں، آپ اس پر غصے میں اٹھ کھڑے ہوئے ، پھر آپ نے ارشاد فرمایا کہ کیا میری موجودگی میں اللہ تعالی کی کتاب سے کھیلا جارہا ہے ؟ حتی کہ ایک شخص کھڑا ہوا اور اُس نے کہا کہ حضرت !کیا اس شخص کو قتل کردوں؟ اس حدیث کو حافظ ابن القیم، علامہ ماردینی، حافظ ابن کثیر اور حافظ ابن حجر نے سند کے اعتبار سے صحیح قرار دیا ہے (عمدة الاثاث، ص: ۲۷، بحوالہ زاد المعاد لابن القیم:۴/۵۲،الجوہر النقي للماردیني:۷/۳۲۳، نیل الاوطار:۶/۲۴۱، بلوغ المرام لابن حجر العسقلانی، ص:۲۲۴ ) اس حدیث میں آپ صلی اللہ علیہ وسلم کا تین طلاق دینے پر ناراض ہونا اس بات کی واضح دلیل ہے کہ ایک مجلس میں تین طلاق دینے سے تین ہی طلاق واقع ہوتی ہیں، ورنہ آپ اس قدر ناراضگی کا اظہار نہیں فرماتے اور امام نسائی نے اس حدیث پر جو باب قائم کیا ہے، یعنی: ”الثلاث المجموعة و مافیہ من التغلیظ“ ، اس سے معلوم ہوتا ہے کہ وہ بھی اس حدیث سے یہی ثابت کرنا چاہ رہے ہیں کہ ایک مجلس کی تین طلاق تین ہی واقع ہوتی ہیں۔
(٦) طبرانی نے حضرت عبد اللہ ابن عمر رضی اللہ عنہما کا اپنی بیوی کو حالت حیض میں طلاق دینے کا تفصیلی واقعہ ذکر کیا ہے ، اُس واقعے کے آخر میں یہ الفاظ بھی ہیں:” یا رسول اللّٰہ ! لو طلقتہا ثلاثاً، کان لي أن أراجعہا ؟ قال: اذا بانت منک وکانت معصیة“ یعنی: ” حضرت عبد اللہ ابن عمر رضی اللہ عنہما نے حضور صلی اللہ علیہ وسلم سے پوچھا یا رسول اللہ! اگر میں اپنی بیوی کو تین طلاقیں دے دیتا ، تو کیا میرے لیے رجوع کا حق تھا ؟ آپ صلی اللہ علیہ وسلم نے فرمایا : تب تو وہ تم سے بائنہ ہوجاتی اور یہ گناہ بھی ہوتا “ یہ حدیث بھی سند کے اعتبار سے صحیح ہے ، بعض لوگ اس حدیث کو سند کے اعتبار سے ضعیف قرار دیتے ہیں، وہ علامہ ہیثمی کے قول سے استدلال کرتے ہیں کہ علامہ ہیثمی نے ” مجمع الزوائد“ میں اس حدیث کے بارے میں لکھا ہے : ” رواہ الطبراني، وفیہ علي بن سعید الرازي، قال الدار قطني: لیس بذاک، و عظمہ غیرہ، و بقیة رجالہ ثقات “(مجمع الزوائد:۴/۳۳۶، کتاب الطلاق، باب طلاق السنة وکیف الطلاق، رقم: ۷۷۶۷، ط: مکتبة القدسي، القاہرة ) یعنی: علامہ طبرانی نے اس حدیث کو نقل کیا ہے اور اس کے ایک راوی ” علی بن سعید الرازی“ ہیں، جن کے بارے میں دار قطنی فرماتے ہیں: ” لیس بذاک“ ؛ البتہ دوسرے حضرات نے ان کی تعظیم و توقیر کی ہے اور ان کے علاوہ باقی رجال ثقہ ہیں“ لیکن دار قطنی نے علی بن سعی الرازی کے بارے میں جو ” لیس بذاک “ فرمایا ہے، اس کے بارے میں علامہ ذہبی ”میزان الاعتدال“ میں فرماتے ہیں: ”حافظ رحَّالٌ جوالٌ، قال الدار قطني: لیس بذاک، تفرد بأشیاء۔ قلت: سمع جبارة بن مغلس، وعبد الأعلی بن حماد۔ روي عنہ الطبراني والحسن بن رشیق والناس ۔ قال ابن یونس: کان یفہم و یحفظ “ ( میزان الاعتدال: ۳/۱۳۱، حرف العین، رقم: ۵۸۵۰، ط: دار المعرفة، بیروت ) یعنی: علی بن سعید الرازی حافظ الحدیث اور بہت زیادہ سفر کرنے والے تھے ۔ امام دار قطنی نے اُن کے بارے میں” لیس بذاک“ جو کہا ہے، یہ اُن کے تفردات میں سے ایک ہے ۔ میں یہ کہتا ہوں کہ انہوں نے ”جبارہ بن المغلس“ اور” عبد الاعلی بن حماد “ سے احادیث لی ہیں اور علامہ طبرانی اور حسن بن رشیق اور بہت سے لوگوں نے اُن سے احادیث روایت کی ہیں ۔ ابن یونس اُن کے بارے میں فرماتے ہیں کہ یہ حدیث سمجھتے اور اُس کو یاد کرلیا کرتے تھے “ علامہ ذہبی کے مذکورہ قول سے معلوم ہوا کہ” دار قطنی “ کے علاوہ کسی اور نے ان کے بارے میں کلام نہیں کیا ہے اور خود” دار قطنی“ نے بھی نرم الفاظ میں کلام کیا ہے اور حافظ ذہبی اُن کے اس کلام پر راضی نہیں ہیں اور اسماعیل بن یونس نے اُن کو ثقہ قرار دیا ہے اور حافظ ذہبی نے اُن کو” حافظ“ کہا ہے ، لہذا بعض لوگوں کا اِس راوی کی وجہ سے اس روایت کو رد کرنا صحیح نہیں ہے، ایک مجلس میں تین طلاق کے تین واقع ہونے پر اس حدیث سے استدلال کرنا بلا شبہہ صحیح ہے۔
(۷) عن نافع بن عجیر أن رکانة بن عبد یزید طلق امرأتہ ”سہیمة“ البتة، فأخبر النبي صلی اللّٰہ علیہ وسلم بذلک، وقال:واللّٰہ ما أردت الا واحدة ً، فقال رسول اللّٰہ صلی اللّٰہ علیہ وسلم : واللّٰہ ما أردتَ الا واحدةً ؟ فقال: رکانة: واللّٰہ ما أردتُ الا واحدة ، فردہا الیہ رسول اللّٰہ صلی اللّٰہ علیہ وسلم ، فطلقہا الثانیة في زمان عمر والثانیة في زمان عثمان۔ (سنن أبي داوٴد، کتاب الطلاق، باب في البتة، رقم: ۲۲۰۶،وقال أبو داوٴد: ہذا أصح من حدیث ابن جریج أن رکانة طلق امرأتہ ثلاثاً؛ لأنہم أہلُ بیتہ، وہم أعلم بہ ) حضرت نافع بن عجیر فرماتے ہیں کہ حضرت رکانہ بن عبد یزید رضی اللہ عنہ نے اپنی بیوی ” سہیمہ“ کو ”بتہ“( تعلق قطع کرنے والی ) طلاق دے دی ، اُس کے بعد انھوں نے حضور صلی اللہ علیہ وسلم کو خبر دی اور آپ سے کہا:بخدا میں نے صرف ایک ہی طلاق کا ارداہ کیا ہے ، اس پر آپ صلی اللہ علیہ وسلم نے ارشاد فرمایا کہ کیا حقیت میں بخدا تو نے ایک ہی طلاق کا ارداہ کیا ہے ؟ حضرت رکانہ نے کہا : اللہ تعالی کی قسم میں نے صرف ایک ہی طلاق کا ارادہ کیا ہے ، تو آپ صلی اللہ علیہ وسلم نے اُن کی بیوی کو اُن کے ساتھ رہنے کی اجازت دے دی ، پھر حضرت رکانہ نے دوسری طلاق حضرت عمر رضی اللہ عنہ کے عہد خالفت میں اور تیسری طلاق حضرت عثمان رضی اللہ کے عہد خلافت میں دی ۔ اس حدیث سے معلوم ہوا کہ ایک مجلس میں تین طلاق دینا شرعا معتبر ہے ، اس لیے کہ اگر ایک مجلس کی تین طلاق تین واقع نہیں ہوتی، تو آپ صلی اللہ علیہ وسلم حضرت رکانہ کو قسم دے کر ایک طلاق دینے کی تصدیق کیوں فرماتے؟لفظ ”بتہ“ چونکہ تین کا بھی احتمال رکھتا ہے، یعنی اس لفظ کو بول کر تین طلاق کی بھی نیت کرنا صحیح ہے ، اس لیے آپ صلی اللہ علیہ وسلم نے اُن کو قسم دی ، اگر تین کے بعد رجوع کا حق ہوتا اور تین طلاق ایک سمجھی جاتی، تو آپ صلی اللہ علیہ وسلم حضرت رکانہ کو قسم نہیں دیتے؛ بلکہ ایسے ہی رجوع کا فیصلہ فرمادیتے۔
(۸) عن ابن عمر أن رجلا أتی عمر رضي اللّٰہ عنہ، فقال: اني طلقت امرأتي، یعني: البتة، قال: عصیت ربک، ففارقت امرأتک، فقال الرجل:فاِن رسول اللّٰہ صلی اللّٰہ علیہ وسلم أمر ابن عمر رضي اللّٰہ عنہما حین فارق امرأتہ أن یراجعہا، فقال لہ عمر رضي اللّٰہ عنہ: ان رسو ل اللّٰہ صلی اللّٰہ علیہ وسلم أمرہ أن یراجع امرأتہ لطلاق بقي لہ، وانہ لم یبق لک ما ترتجع بہ امرأتک۔ ( السنن الکبری للبیہقي، کتاب الخلع والطلاق، باب ما جاء في امضاء الطلاق الثلاث وان کن مجموعات، رقم: ۱۴۹۵۶) حضرت عبد اللہ بن عمر رضی اللہ عنہ فرماتے ہیں کہ ایک شخص حضرت عمر رضی اللہ کے پاس آیا اور اُس نے کہا کہ میں نے حیض کی حالت میں اپنی بیوی کو بتی ( تعلق قطع کرنے والی اور یہاں مراد تین طلاق ہیں ) طلاق دے دی ہے ، حضرت عمر رضی اللہ عنہ نے فرمایا کہ تو نے اپنے پروردگار کی نافرمانی کی اور تیری بیوی تجھ سے بالکل الگ ہوگئی ،اُس شخص نے کہا کہ حضرت عبد اللہ بن عمر رضی ا للہ عنہ کے ساتھ بھی بالکل ایساہی واقعہ پیش آیا تھا؛ مگر آپ صلی اللہ علیہ وسلم نے تو اُن کو رجوع کا حق دیا تھا ، اس پر حضرت عمر رضی اللہ نے اُس سے فرمایاکہ بلا شبہہ آنحضرت صلی اللہ علیہ وسلم نے حضرت عبد اللہ کو یہ حکم دیا تھا کہ وہ اپنی بیوی سے رجوع کر لیں اور اس کی وجہ یہ تھی کہ اُن کی طلاق باقی تھی اور تمہارے لیے تو اپنی بیوی سے رجوع کا حق نہیں ؛ اس لیے کہ تمہاری طلاق باقی نہیں ہے ۔ حضرت عبد اللہ بن عمر رضی اللہ نے اپنی بیوی کو ایک طلاق دی تھی ، اس لیے اُن کے لیے رجوع کا حق محفوظ تھا اور مذکورہ شخص نے چونکہ اپنی بیوی کو تین طلاق دیدی تھی، اس لیے اس کے لیے رجوع کا حق ختم ہوگیا تھا، اسی لیے حضرت عمر رضی اللہ نے اُس سے فرمایا کہ تم رجوع نہیں کرسکتے ۔ اس واقعے سے معلوم ہوا کہ حضرت عمر رضی اللہ عنہ اس حکم کو حضور صلی اللہ علیہ وسلم کے حکم سے ماخوذ سمجھتے تھے ، جیساکہ حدیث کے الفاظ سے یہ بات بالکل ظاہر ہے ۔
(۹) کان عبد اللّٰہ اذا سئل عن ذلک قال: لأحدہم: أما أنت ان طلقت امرأتک مرةً أو مرتین، فان رسول اللّٰہ صلی اللّٰہ علیہ وسلم أمرني بہذا، وان کنت طلقتہا ثلاثاً، فقد حرمت علیک حتی تنکح زوجا غیرک، و عصیت اللّٰہ فیما أمرک من طلاق امرأتک ۔ ( صحیح مسلم ، کتاب الطلاق، باب تحریم طلاق الحائض بغیر رضاہا، رقم: ۱۴۷۱) حضرت عبد اللہ ابن عمر رضی اللہ عنہما سے جب کوئی شخص حیض کی حالت میں طلاق دینے سے متعلق معلوم کرتا، تو آپ اُس سے فرماتے کہ اگر تم نے اپنی بیوی کو ایک یا دو طلاقیں دی ہیں ، تو بیشک آپ صلی اللہ علیہ وسلم نے اس صورت میں مجھے رجوع کا حکم دیا تھا اور اگر تم نے اپنی بیوی کو تین طلاقیں دی ہیں ، تو یقینا وہ تم پر حرام ہوگئی ہے جب تک کہ وہ تمہارے علاوہ کسی دوسرے شخص سے نکاح نہ کر لے اور اس طرح تم نے اپنی بیوی کو تین طلاق دے کر اللہ کی نافرمانی کی ہے ۔ اس روایت سے بھی معلوم ہوا کہ تین طلاق کے بعد کوئی گنجائش باقی نہیں رہتی اور عورت اپنے شوہر پر حرام ہوجاتی ہے ، اس روایت سے یہ بھی معلوم ہوا کہ ایک اور دو طلاق کے بعد رجوع کا حکم تو آپ صلی اللہ علیہ وسلم سے ثابت ہے ؛ لیکن تین طلاقوں کے بعد رجوع کا حکم آپ صلی اللہ علیہ و سلم سے ثابت نہیں ہے ، ورنہ حضرت ابن عمر رضی اللہ عنہما اس کا حوالہ ضرور دیتے اور اس کا خلاف فتوی دینے کی ہر گز جرء ت نہیں کرتے ۔ حضرت علی، حضرت حسن بن علی، حضرت عبد اللہ بن عباس، حضرت ابو ہریرہ، حضرت عبد اللہ بن مسعود ، حضرت عمران بن حصین، حضرت ابوموسی اشعری، حضرت عبد اللہ بن عمرو بن العاص رضی اللہ عنہم اور امام جعفر بن محمد سے بھی صراحتا یہ بات ثابت ہے کہ ایک مجلس میں دی گئی تین طلاق تین ہی شمار ہونگی۔ ان سب حضرات کے اقوال کی تفصیل کے لیے دیکھیے: عمدة الاثاث فی حکم الطلقات الثلاث، ص: ۶۶۔۔۷۵۔ مذکورہ دلائل سے معلوم ہوا کہ ایک مجلس میں دی گئی تین طلاق تین ہی واقع ہوتی ہیں، قرآن و حدیث، حضرات صحابہ کرام ، تابعین عظام اور سلف و خلف کے جمہور علماء کا یہی متفقہ مسلک ہے، قرآن و حدیث اور حضرات صحابہ کرام کے اقوال تو تفصیل سے بیان کیے جاچکے ، اب چند اہم فقہاء کے اقوال بھی ملاحظہ فرمائیں: علامہ ابن الہمام فرماتے ہیں: ذہب جمہور الصحابة والتابعین ومن بعدہم من أئمة المسلمین الی أنہ یقع ثلاثاً ۔ ( فتح القدیر:۳/۴۶۹، کتاب الطلاق، ط: دار الفکر )”جمہور حضرات صحابہ کرام، تابعین اور ائمہ مسلمین کا یہی مسلک ہے کہ تین طلاقیں تین ہی واقع ہونگی“۔ علامہ بدر الدین عینی فرماتے ہیں: ”ومذہب جماہیر العلماء من التابعین ومن بعدہم منہم: الأوزاعي والنخعي والثوري، و أبو حنیفة وأصحابہ، ومالک و أصحابہ، والشافعي وأصحابہ، وأحمد و أصحابہ، و اسحاق و أبو ثور و أبو عبید وآخرون کثیرون علی أن من طلق امرأتہ ثلاثاً، وقعن؛ولکنہ یأثم“۔ ( عمدة القاری:۲۰/۲۳۳، کتاب فضائل القرآن، باب من جوز طلاق الثلاث، ط: دار احیاء التراث العربي، بیروت ) ”جمہور علماء جن میں تابعین، تبع تابعین، حضرت امام اوزاعی، امام نخعی، امام ثوری، امام ابوحنیفہ اور اُن کے اصحاب، امام مالک اور اُن کے اصحاب، امام شافعی اور اُن کے اصحاب، امام احمد اور اُن کے اصحاب، امام اسحاق بن راہویہ، امام ابو ثور، امام ابو عبیدہ وغیرہ کا یہی مسلک ہے کہ جو شخص اپنی بیوی کو تین طلاق دیدے، تو تینوں طلاقیں واقع ہو جائیں گی؛ البتہ اس کی وجہ سے وہ گنہگار ہوگا“لہذا صورت مسئولہ میں اگر شخص مذکور نے اپنی بیوی کو ایک مرتبہ میں تین طلاق دیدی ہے، تو اُس کی بیوی پر تینوں طلاقیں واقع ہوگئیں اور بیوی مغلظہ بائنہ ہوگئی،جیساکہ اس کے دلائل تفصیل سے ماقبل میں بیان کر دیے گئے، جو لوگ تین طلاق کو ایک شمار کرتے ہیں، اُن کا قول قطعا غلط ہے۔ فقط واللہ تعالی اعلم بالصواب کتبہ محمد مصعب عفی عنہ دار الافتاء، دارالعلوم/ دیوبند ۲۲/۷/۱۴۳۷ھ الجواب صحیح: زین الاسلام قاسمی الٰہ آبادی، فخر الاسلام عفی عنہ ۔ (دار الإفتاء، دارالعلوم دیوبند: سوال جواب نمبر: 67047)
(٢٢) سوال: ایک آدمی نے اپنی شک کی طبعیت کی بنا پر اپنی اہلیہ کو تین طلاق ایک ساتھ دی ہیں، کیا اس طرح کہنے سے طلاق واقع ہو گئی ہے؟ جواب: ایک ساتھ یا ایک ہی مجلس میں تین طلاقیں دینا خلافِ سنت ہے، ایسا کرنے والا سخت گناہ گارہے، جس کی وجہ سے صدقِ دل سے توبہ واستغفار کرنا چاہیے، تاہم اگر کوئی شخص اپنی بیوی کو اس طرح تین طلاقیں دے دے تو قرآن و حدیث، جمہور صحابہ، تابعین، تبع تابعین اور ائمہ مجتہدین بشمولِ ائمہ اربعہ ( یعنی حضرت امام ابوحنیفہ، حضرت امام مالک ، حضرت امام شافعی، اور حضرت امام احمد بن حنبل رحمہم اللہ) کے نزدیک ایک مجلس میں دی جانے والی تین طلاقیں تین ہی شمار ہوتی ہیں، جو لوگ ایک مجلس کی تین طلاقوں کو ایک شمار کرتے ہیں ان کا قول قرآن و حدیث، جمہور صحابہ، تابعین، تبع تابعین اور ائمہ مجتہدین بشمول ائمہ اربعہ کے مسلک کے خلاف ہونے کی وجہ سے ناقابلِ اعتبار ہے۔ لہٰذا صورتِ مسئولہ میں مذکورہ شخص کی بیوی پر تین طلاقیں واقع ہوگئی ہیں، میاں بیوی کے درمیان نکاح ختم ہوچکا ہے، بیوی اپنے شوہر پر حرمتِ مغلظہ کے ساتھ حرام ہوچکی ہے، اب نہ تو رجوع کرنا جائز ہے اور نہ ہی دوبارہ نکاح کر کے ساتھ رہنا جائز ہے، بیوی عدت گزارنے کے بعد دوسری جگہ نکاح کرنے میں آزاد ہوگی، دوسری جگہ نکاح کرنے کی صورت میں اگر ازدواجی تعلق قائم ہونے کے بعد دوسرے شوہر کا انتقال ہوجائے یا وہ طلاق دے دے تو اس دوسرے شوہر کی عدت گزرنے کے بعد دوبارہ پہلے شوہر سے شرعی گواہوں کی موجودگی میں نئے مہر کے ساتھ دوبارہ نکاح کی اجازت ہوگی۔ (دار الإفتاء : جامعہ علوم اسلامیہ علامہ محمد یوسف بنوری ٹاؤن: فتوی نمبر : 144212201635)
(٢٣) سوال: السلام علیکم ، اگر کوئی شخص اپنی بیوی کو ایک ساتھ تین طلاق دے تو اس کا کیا حکم ہے؟ یعنی گناہ تو نہیں ہے۔ جواب: ایک ساتھ تین طلاق دینا سخت گناہ اور قرآن مجید کے بتلائے ہوئے طریق طلاق سے انحراف اور اسکے ساتھ ایک طرح کا کھیل اور مذاق ہے، تاہم تین طلاق دینے سے تین طلاقیں واقع ہوجائیں گی۔ (دارالافتاء الاخلاص،کراچی)
(٢٤) سوال: کیا فرماتے ہیں علماء دین ومفتیانِ شرع متین مسئلہ ذیل کے بارے میں کہ : چند لوگوں نے زبر دستی مل کر شوہر پردباؤ ڈال کر لڑکی کو طلاق دلائی اور شوہر سے طلاق کے الفاظ کہلوائے، جب کہ شوہر بالکل بھی الفاظ کہنے پر راضی نہیں تھا، تو کیا اس کی بیوی پر طلاق واقع ہو گئی یا نہیں ؟ جواب: اگر زبردستی طلاق لی جائے اور شوہر زبان سے طلاق دیدے تو اس صورت میں بھی طلاق واقع ہو جاتی ہے۔ (كتاب النوازل: ٢١٠/٩، ط: زكريا)

উত্তর লিখনে-
হুযাইফা নূর
ফতোয়া ও ইসলামী আইন বিভাগ
মারকাযুল উলুম আশ-শরইয়্যাহ সাভার, ঢাকা।

Similar Posts