ছাত্রদের নিয়ম কানুন

মারকাযের সকল ছাত্রদের জন্য প্রণয়নকৃত বিধি-বিধান সমূহ

📜 অঙ্গীকারনামা ও নিয়মাবলী

অঙ্গীকারনামা

আমি মারকাযের একজন ছাত্র হিসেবে অঙ্গীকার করছি যে,

  • ০১ আমি একমাত্র আল্লাহ তা’আলাকে রাজি-খুশি করার জন্য ইলমে দ্বীন হাসিল করব এবং জীবনের সকল ক্ষেত্রে শরীয়তের হুকুম-আহকাম সম্পূর্ণরূপে মেনে চলব।
  • ০২ পাঁচ ওয়াক্ত নামায তাকবীরে উলার সাথে মসজিদে জামাতের সাথে সুন্নাত তরীকায় আদায় করতে সচেষ্ট থাকব।
  • ০৩ মারকাযের সকল নিয়ম-কানুন বিনা দ্বিধায় মেনে চলতে বাধ্য থাকব।
  • ০৪ দরস, মুতালাআ ও তাকরারের যথাযথ পাবন্দী করব। পড়াশুনা ব্যতীত অন্য কোন শোগল ইখতিয়ার করব না। মোবাইল ব্যবহার করব না। পত্রিকা-ম্যাগাজিন, গল্প, উপন্যাস এবং ফাসেদ আক্বীদা ও ফাসেদ চিন্তা-ধারার লোকদের কোন বই-পুস্তক পড়ব না। প্রাণীর ছবি, রেডিও ইত্যাদি রাখব না।
  • ০৫ সর্বদা সুন্নাত মুতাবিক আদর্শ জীবন-যাপন করব। সুন্নাতী পোশাক-পরিচ্ছদ, চাল-চলন ও আচার-ব্যবহার গ্রহণ করব। এ ব্যাপারে আমাদের আকাবিরদের তরয-তরীকাকেই নমুনা হিসেবে গ্রহণ করব।
  • ০৬ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত কোন প্রকার সভা ও মিছিলে অংশগ্রহণ করব না।
  • ০৭ পাঞ্জাবী এক রঙের ও হাঁটুর কমপক্ষে চার আঙ্গুল পরিমাণ নিচ পর্যন্ত এবং সেলোয়ার-লুঙ্গি টাখনুর উপরে পরিধান করব।
  • ০৮ নিজে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন থাকব এবং আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখব। মাথার চুল ও হাত-পায়ের নখ ছোট এবং মোচ (গোফ) খাট করে রাখব। দাড়ি কখনও উপড়াবো না এবং একমুষ্টির ভিতরে ছাটব না।
  • ০৯ সবসময় মারকাযের আসাতিযায়ে কেরাম ও মুলাযিমীনদেরকে সম্মান করে চলব এবং ছাত্র ভাইদের সাথে কোনরূপ দ্বন্দ্ব-কলহে লিপ্ত হব না।
  • ১০ সংশ্লিষ্ট নেগরানের অনুমতি ব্যতিরেকে কখনও মারকাযের সীমানার বাইরে যাব না।
  • ১১ মাদরাসা কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত দারুল ইক্বামায় কোন মেহমান বা সাথীকে থাকতে দিব না।
  • ১২ মারকাযের আসবাবপত্রের যথাযথ হেফাজত করব। মারকাযের কোন সম্পদ নষ্ট হতে দিব না এবং নিজেও কোন জিনিসের ক্ষতি সাধন করব না। মারকাযের বিদ্যুৎ, পানি, বাতি, পাখা ইত্যাদির ব্যবহারে মিতব্যয়ী হব এবং অপচয় সম্পর্কে সতর্ক থাকব।
  • ১৩ মারকাযের কোন কানুন অমান্য করলে যথোচিত শাস্তি অথবা বহিষ্কারাদেশ গ্রহণে বাধ্য থাকব। এতে আমার ও অভিভাবকের কোন প্রকার আপত্তি থাকবে না।
  • ১৪ এক বা একাধিক দিনের ছুটির প্রয়োজন হলে যথাযোগ্য কারণ দর্শিয়ে দরখাস্তের মাধ্যমে মুহতামিম/নাযিমে তালিমাত সাহেবের অনুমতি গ্রহণ করতে বাধ্য থাকব।
  • ১৫ অন্যের জিনিসপত্র অনুমতি ব্যতীত ব্যবহার করব না।

দারুল ইক্বামার কানুন (দৈনন্দিনের রুটিন)

  • ০১ মারকাযের সকল ছাত্রকে দৈনন্দিন পাঁচ ওয়াক্ত নামায মারকাযের মসজিদে তাকবীরে উলার সাথে আদায় করতে হবে।
  • ০২ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পর মা’মুলাতে অংশগ্রহণসহ দৈনিক নির্ধারিত পরিমাণ কুরআনে কারীম তিলাওয়াত করতে হবে।
  • ০৩ প্রতি নামাযের ১০ মিনিট পূর্বে নিজ নিজ রুম ত্যাগ করবে। ৭ মিনিটের মধ্যে মসজিদে উপস্থিত হবে। এ ব্যাপারে প্রত্যেক জামাতের আমীরগণ সজাগ দৃষ্টি রাখবে। রুম ত্যাগ করার জন্য প্রথমে এলান করবে, অতঃপর লাইট ও ফ্যানের সুইচ বন্ধ করে দিবে। বিদ্যুৎ না থাকলেও খেয়াল করে সুইচ বন্ধ করে আসবে।
  • ০৪ সকল ছাত্র সর্বদা মারকায ও মসজিদের বাউন্ডারীর মধ্যে অবস্থান করবে। একান্ত প্রয়োজনে নেগরান উস্তাদ হতে নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে ছুটি নেয়া ছাড়া কোন ছাত্র বাইরে যেতে পারবে না।
  • ০৫ সকলেই ঘুমের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঘুমিয়ে পড়বে। এই সময়ে কোন ছাত্র বাহিরে থাকতে পারবে না বা এমন কোন কাজ করবে না যাতে অন্যের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে। কোন ছাত্র নির্ধারিত সময়ের বেশী রাত জেগে লেখা-পড়া করতে চাইলে নেগরান উস্তাদের অনুমতি নিয়ে নির্দিষ্ট স্থানে লেখাপড়া করতে পারবে।
  • ০৬ প্রত্যেক ছাত্র ভোর ৪টায় উঠে তাহাজ্জুদ, কুরআন তিলাওয়াত ইত্যাদি মামুলাত আঞ্জাম দিবে।
  • ০৭ দরসের সময় ব্যতীত অবশিষ্ট সময় তাকরার, মুতালাআ এবং সবক ইয়াদের কাজে সর্বদা লিপ্ত থাকবে। অন্যের পড়াশুনায় ক্ষতি হয় এমন কিছু করবে না।
  • ০৮ নেগরানের অনুমতি ছাড়া কারো সাথে কোন প্রকার লেনদেন করবে না। পরস্পরে সদ্ভাব বজায় রাখবে। পরস্পরে গালাগালি, ঝগড়া-ফাসাদ কিংবা মারামারি করবে না।
  • ০৯ সকল ছাত্রের সর্বদা দারুল ইক্বামায় হাজির থাকা জরুরি। নাযেমে দারুল ইক্বামার হাজিরায় কারো পরপর দুইবার অনুপস্থিত পাওয়া গেলে তাকে শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে।
  • ১০ খানা-পিনা, অজু-ইস্তিঞ্জা, ঘুম ইত্যাদি সকল কার্য সুন্নাত তরীকা অনুযায়ী সম্পন্ন করবে।
  • ১১ সালাম আদান-প্রদানের বিশেষ পাবন্দি করবে।
  • ১২ মারকাযের কোন ছাত্র মোবাইল রাখতে পারবে না। মোবাইল ব্যবহার বহিষ্কারযোগ্য অপরাধ।
  • ১৩ মারকাযের অভ্যন্তরে হিটার, ইস্ত্রি এবং এ জাতীয় কোন কিছু ব্যবহার করতে পারবে না।
  • ১৪ উল্লেখিত কানুনসমূহ ছাড়াও বিভিন্ন সময়ে যে সকল কানুন বা নির্দেশ জারি করা হবে, সেগুলো আন্তরিকতার সাথে মেনে চলবে।

পোশাক-পরিচ্ছদ সংক্রান্ত নিয়ম-কানুন

  • শালীন পোশাক হওয়া জরুরী। হক্কানী আলেম-উলামা ও আল্লাহওয়ালা-বুযুর্গদের পোশাকের অনুকরণ কাম্য; জুব্বা অগ্রগণ্য। পাঞ্জাবী নিসফে সাক পর্যন্ত এবং এমব্রয়ডারী বিহীন হতে হবে। হাতাবিশিষ্ট সাদা গেঞ্জি, সেলোয়ার ও অন্যান্য পোষাকও শালীনতা ও কওমী মাদরাসার ঐতিহ্য অনুযায়ী হতে হবে।
  • চুল সামনে-পিছনে চতুর্দিকে সমান থাকতে হবে। এক্ষেত্রে কোন অরুচিকর পদ্ধতি বা স্টাইলের অনুসরণ করা যাবে না। শালীনতা ও রুচিশীলতা সুন্নাতের অনুসরণের মধ্যেই নিহিত রয়েছে। নাযেমে তালীমাতের সাথে ব্যক্তিগত পরামর্শ সাপেক্ষে বাবরী চুলও রাখা যেতে পারে।
  • সকলের নিকট মিসওয়াক থাকা অপরিহার্য। দাঁত পরিষ্কারের জন্য শুধু ব্রাশ যথেষ্ট নয়। প্রত্যেকের নিকট টয়লেট পেপার, নেইল-কাটার ও কেঁচি ইত্যাদি প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র থাকতে হবে।

আচার-আচরণ সংক্রান্ত নিয়ম-কানুন

  • অনুমতি ব্যতীত অন্যের জুতা-স্যান্ডেল, খাতা-কলম, প্লেট-গাস, গামছা-সাবান ইত্যাদি আসবাবপত্র ব্যবহার করা থেকে সম্পূর্ণরূপে বিরত থাকবে।
  • উযু-গোসলে প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি ব্যবহার থেকে বিরত থাকবে।
  • লেখাপড়ায় ব্যাঘাত সৃষ্টিকারী কোন জিনিস তথা উপন্যাস-গল্প এমনিভাবে ক্ষতিকারক অন্যান্য বই-পত্রিকা কারো কাছে থাকতে পারবে না।
  • ইলেকট্রিক কোন জিনিস তথা মোবাইল, রেডিও, ইস্ত্রী, এমপি-থ্রী ইত্যাদি ব্যবহার করা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। এমন বস্তু কারো নিকট পাওয়া গেলে সে বহিষ্কারের জন্য বিবেচিত হবে।
  • পরস্পর ঝগড়া-বিবাদ থেকে সম্পূর্ণরূপে বিরত থাকবে। মাদরাসার স্টাফদের সাথেও কোনরূপ দুর্ব্যবহার করবে না। কোন সমস্যা হলে উস্তাদদের মাধ্যমে তা নিরসন করে নিবে। কারো থেকে কোন অসদাচরণ পরিলক্ষিত হলে তার জন্য কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে।
  • মাদরাসার যাবতীয় আসবাবপত্র তথা কিতাব, টেবিল ইত্যাদি নিজ সম্পদের মতই হেফাজত করবে। কোন জিনিস যেন নষ্ট না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখবে। অযথা লাইট-ফ্যানের ব্যবহার থেকে বিরত থাকবে।
  • মাদরাসার কোন কিতাবে বা টেবিলে কলম বা পেন্সিল দিয়ে কোন প্রকার দাগ কিংবা কোন কিছু লেখা যাবে না। এমনিভাবে নাযেমে দারুল ইকামার অনুমতি ব্যতীত দেয়ালে কোন প্রকার ঘোষণা বা উপদেশমূলক বাণী সম্বলিত কাগজ ইত্যাদি লাগানো যাবে না।

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা সংক্রান্ত নিয়ম-কানুন

  • মাদরাসা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার প্রতি বিশেষ খেয়াল রাখবে। নিয়মিত ঝাড়ু দেয়া ও ঝুড়িতে ময়লা ফেলার ব্যাপারে যত্নবান থাকবে।
  • প্রতিদিন ফজরের পর এবং মাগরিবের পূর্বে দু’বেলা পূর্ণ রুম ভালভাবে ঝাড়ু দিবে। তিনবেলা খাবারের পর খাবারের স্থানটুকু ঝাড়ু দিবে। প্রতিদিন সকাল বেলা বাথরুম ও তার সামনের বারান্দায় পানি ঢেলে ভালোভাবে পরিষ্কার করবে। ঘরের সামনের বারান্দা, করিডোর ও সিঁড়ি প্রতিদিন একবার ঝাড়ু দিয়ে মুছে দিবে। প্রয়োজনে একাধিকবারও মুছবে।
  • প্রতি শুক্রবার সকাল ১০.০০ টার পর নিজ নিজ রুম, ফ্যান-জানালা-দরজাসহ ভালোভাবে পরিষ্কার করবে। মাকড়সার জাল ও ধুলোবালি ভালোভাবে ঝাড়বে। উস্তাদগণের রুম, মাকতাবা, করিডোর, বারান্দা, বাথরুম ও জুতার বাক্সগুলোও ভালোভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করবে। বাথরুম পরিষ্কার করার ক্ষেত্রে হারপিক ও ব্লিচিং পাউডার ব্যবহার করবে এবং বাথরুমের দেয়াল, দরজা, জুতা, বদনা, বালতি, মগ ইত্যাদিও ঘসে-মেজে পরিষ্কার করবে।
  • উস্তাদগণের ও নিজেদের পরিধানের কাপড়-চোপড় ও বিছানার চাদর, বালিশের কভার ইত্যাদি ময়লা হয়ে গেলে তা ধৌত করে নিবে।
  • প্রত্যেক ছাত্র নিজ কাপড়-চোপড় ও বিছানাপত্র ভালোভাবে গুছিয়ে রাখবে। এক্ষেত্রে কোন ধরনের উদাসীনতা পরিলক্ষিত হলে, কোন সামানা অগোছালো থাকলে নাযেমে দারুল ইক্বামার পক্ষ থেকে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেয়া হবে।
  • নীচ তলায় সিঁড়ির সামনে কোন জুতা রাখা যাবে না। বরং তা নির্ধারিত স্থানে বা নিজের হেফাজতে রাখবে।
  • ঘুম থেকে উঠার পর বেডিংপত্র সাজিয়ে-গুছিয়ে রাখবে।
  • কিতাব-খাতা যেখানে-সেখানে ফেলে রাখবে না, নিজ হেফাজতে রাখবে।
  • কোন কাগজ, চাটাই ইত্যাদির টুকরা রুমে ফেলে রাখবে না।
  • ১০ কোন সামানা বারান্দায় রাখবে না।
  • ১১ ছেড়া ও অতিরিক্ত কাগজ-পত্র কাগজদানে রাখবে।
  • ১২ থুথু থুকদানে ফেলবে, অন্যত্র ফেলবে না।
  • ১৩ পানি বা উচ্ছিষ্ট নির্ধারিত স্থানে ফেলবে।

বাথরুম এলাকা পরিষ্কার রাখার পদ্ধতি

  • ইস্তেঞ্জা করার আগে টয়লেটের প্যানে কিছু পানি ঢেলে দিবে।
  • ব্যবহৃত টয়লেট পেপার নির্ধারিত পাত্রে ফেলবে।
  • বড় ইস্তেঞ্জা করার পর প্যানে অতিরিক্ত পানি ঢেলে ভালভাবে পরিষ্কার করবে। যেন ময়লা না দেখা যায় এবং শৌচকর্মের পর হাত মাটি বা সাবান দ্বারা ভালভাবে পরিষ্কার করে নিবে।

ছুটি সংক্রান্ত নিয়ম-কানুন

⚠️ গুরুত্বপূর্ণ নোট: ছুটি নেয়ার কারণে ছাত্রদের লেখাপড়ার অপূরণীয় ক্ষতি হয়, তাই মারকাযের সকল ছাত্রকে যথাসম্ভব ছুটি না নেয়ার চেষ্টা করতে হবে।

  • ০১ কোন দরসে ছুটির প্রয়োজন হলে ঐ দরসের নির্ধারিত উস্তাদের নিকট থেকে ছুটি নিয়ে যাবে। ছুটি ব্যতীত কেউ দরসে অনুপস্থিত থাকলে কিংবা নির্ধারিত সময়ের অতিরিক্ত ছুটি কাটালে নাযেমে তা’লীমাতের নিকট দরখাস্ত মঞ্জুর করা ব্যতীত দরসে বসতে পারবে না।
  • ০২ সপ্তাহের মাঝে (তথা শনিবার থেকে বৃহস্পতিবার এর মাঝে) একদিন কিংবা তার চেয়ে বেশি সময়ের জন্য ছুটির প্রয়োজন হলে নিজ জামাতের নেগরান উস্তাদ থেকে দরখাস্তের মাধ্যমে সুপারিশ গ্রহণ করতঃ নাযেমে তা’লীমাত সাহেবের কাছ থেকে তা মঞ্জুর করিয়ে নিতে হবে। অতঃপর মাতবাখের খানা বন্ধ করে নিবে। তবে যদি একদিনের চেয়ে কম সময়ের ছুটির প্রয়োজন হয় তাহলে নেগরান উস্তাদ থেকে অনুমতি নেয়ার পর খানাও বন্ধ করে যাবে। এক্ষেত্রে যদি তা সবক চলাকালীন সময়ে হয় তাহলে সবকের উস্তাদগণ হতেও ছুটি নেওয়া অপরিহার্য।
  • ০৩ সবক চলাকালে কারো ছুটির প্রয়োজন হলে সবকের সাথে সংশ্লিষ্ট উস্তাদ থেকে উপযুক্ত কারণ দর্শায়ে অনুমতিপত্রে ছুটি নিবে।
  • ০৪ বৃহস্পতিবার আছরের পর হতে শুক্রবার মাগরিব পর্যন্ত সময়ের জন্য কারো কোথাও যাওয়ার প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট নেগরান উস্তাদ থেকে সুপারিশ নিয়ে নাজিমে তালিমাত সাহেবের নিকট মঞ্জুর করতঃ ছুটি নিয়ে যাবে।
  • ০৫ মারকাযের কোন ছাত্র প্রতি বৃহস্পতিবার বাড়ি যেতে পারবে না। তবে প্রয়োজন হলে ১৫ দিন অন্তর অন্তর শুক্রবার মাগরিব পর্যন্ত সময়ের জন্য ছুটি নিয়ে যেতে পারবে।
  • ০৬ ছুটি নিয়ে বাড়ি বা অন্য কোথাও গেলে বোর্ডিং-এর খানা বন্ধ করে যেতে হবে।
  • ০৭ ছুটির দরখাস্ত উক্ত বইতে সংযুক্ত কাগজে শুদ্ধভাবে স্পষ্টাক্ষরে লিখতে হবে।
  • ০৮ ছুটি গ্রহণের প্রকৃত কারণ পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করে ছুটির সময়সীমা অর্থাৎ কোন তারিখ থেকে কোন তারিখ পর্যন্ত এবং মোট কত দিন তা আরবী মাসের তারিখ অনুযায়ী স্পষ্টভাবে লিখতে হবে।
  • ০৯ মৌখিক ও লিখিত যাবতীয় ছুটি- ‘রিপোর্ট খাতা’- এর নির্ধারিত স্থানে নোট করে রুম নিগরানের স্বাক্ষর নিয়ে রাখবে।
  • ১০ ছুটি ছাড়া ৩ দিন দরসে অনুপস্থিত থাকলে হাজিরা খাতা থেকে নাম কেটে দেয়া হবে। কেটে যাওয়ার পর ন্যায়সঙ্গত কারণ দর্শিয়ে দরখাস্ত লিখে নেগরানের সুপারিশ নিয়ে নাযিমে তা’লীমাত কর্তৃক মঞ্জুর করিয়ে নাম উঠাতে হবে। ন্যায়সঙ্গত কারণ না থাকলে দরখাস্ত লিখে নেগরানের সুপারিশ নিয়ে নাযেমে তা’লীমাত কর্তৃক মঞ্জুর করিয়ে হাজিরা খাতায় নাম উঠাতে মাদরাসায় ১০০০/- টাকা জমা দিতে হবে; নতুবা দরসে বসতে পারবে না।
  • ১১ নির্ধারিত ছুটি ব্যতীত বিনা প্রয়োজনে ছুটি না নেওয়া বাঞ্চনীয়।
  • ১২ ছুটির দরখাস্ত নিজ হাতে সহীহ-শুদ্ধভাবে লিখবে। জামাতে নাহবেমীর হতে উপরের ছাত্ররা আরবীতে লিখবে।
  • ১৩ ১৫ দিনের অধিক অনুপস্থিত থাকলে দাখেলা বাতিল হয়ে যাবে। তবে মুহতামিম সাহেবের অনুমতি সাপেক্ষে নতুনভাবে ভর্তি হতে পারবে।

দাওয়াত ও তাবলীগ বিভাগ

হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শেষ নবী। তাঁর পরে আর কোন নবী আসবেন না। তাই নবুওয়াতি মহান জিম্মাদারী উলামায়ে কেরামের উপর অর্পিত হয়েছে। সেই জিম্মাদারীকে আঞ্জাম দেয়ার লক্ষ্যে এবং ছাত্রদেকে নবুওয়াতি দরদ আর ফিকরে অভ্যস্ত করে তোলার লক্ষ্যে এ মাদরাসা থেকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দাওয়াতের মেহনতে অংশগ্রহণ করা হয়।


এরই সুবাদে বছরের শুরু ও শেষে দুইটি জোড়, প্রতিদিন আসরের পর ইজতেমায়ী তা’লীম, ১০ মিনিটের মসজিদ আবাদী মেহনত, শ্রেণিভিত্তিক মাশওয়ারা, প্রতি সপ্তাহে আসর থেকে মাগরিব পর্যন্ত ১ম ও ২য় গাশত, উস্তাদ ও ছাত্রদের সাপ্তাহিক পৃথক মাশওয়ারা, প্রতি মাসে ২৪ ঘণ্টার জন্য একাধিক জামা’আত খুরুজ এবং মারকাযে শবগুজারী, বিভিন্ন বন্ধের মওকায় ১০ দিন, ৭ দিন ও ৩ দিনের জামা’আত এবং বার্ষিক পরীক্ষার বন্ধে চিল্লা, ৩০ দিন, ২০ দিনের জামা’আত এবং ফারেগ ছাত্রদের সালের জন্য বের হওয়া ইত্যাদি কার্যক্রম চালু আছে।


প্রতি বছরই এ প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষা সমাপানকারী ২০/২২ জন আলেম সালের সফরে থাকেন। এমনকি উস্তাদগণও বিভিন্ন মওকায় সফরে বের হয়ে ছাত্রদেরকে উৎসাহ প্রদান করে থাকেন। ফলশ্রুতিতে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন মাদারিস-মারাকিযে এ প্রতিষ্ঠিানের সন্তানরা অত্যন্ত সুনামের সাথে দাওয়াতের কাজে বিভিন্ন দায়িত্ব আঞ্জাম দিয়ে যাচ্ছেন।

ছাত্রদের বিভিন্ন অপরাধ সংক্রান্ত শাস্তির বিবরণ

🚫 বহিষ্কারযোগ্য অপরাধ
  • সিনেমা দেখা।
  • চারিত্রিক দোষে দোষী সাব্যস্ত হওয়া।
  • মারামারি ও দলাদলি করা।
  • উস্তাদের সাথে বা স্টাফের কারো সাথে বেয়াদবি করা।
  • চুরি করা।
  • বিনা ওজর ও বিনা দরখাস্তে পরীক্ষা না দেয়া।
  • রেডিও, টেপ, মোবাইল ও নিষিদ্ধ বই-পুস্তক বা নিষিদ্ধ কোন জিনিস রাখা।
  • দাঁড়ি কাটা।
  • ১০ নামাজ না পড়া।
  • ১১ দেয়াল টপকানো ইত্যাদি।
⚠️ শাস্তিযোগ্য অপরাধসমূহ
  • ০১ মসজিদের আইন ভঙ্গ করা।
  • ০২ ছুটি ছাড়া গাইরে হাজির থাকা।
  • ০৩ অসময়ে শুয়ে থাকা।
  • ০৪ চুল বড় রাখা, আপত্তিকর কাপড়-চোপড় পরা।
  • ০৫ কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে নিজে নিজে বৈদ্যুতিক কোন কাজ করা।
  • ০৬ মসজিদের ১০ মিনিট আগে না যাওয়া।
  • ০৭ সুন্নাত না পড়ে মসজিদ থেকে বের হওয়া।
  • ০৮ বিনা অনুমতিতে গেটের বাইরে যাওয়া।
  • ০৯ মাদরাসায় থাকা সত্ত্বেও বিনা ওজরে সবকে উপস্থিত না থাকা।
  • ১০ দারুল ইক্বামার হাজিরায় অনুপস্থিত থাকা।
  • ১১ আছরের পর ছাড়া অন্য সময় খেলাধুলা করা ইত্যাদি।
  • ১২ বায়তুল খালা বা ওয়ালে লেখা।
🚷 বর্জনীয় কাজসমূহ
  • ০১ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পরিপন্থী যে কোন কাজ করা।
  • ০২ জুতা বিহীন চলা।
  • ০৩ বিল্ডিং-এর নীচ তলা, ২য় তলা, ৩য় তলার বারান্দায়, সিঁড়িতে এবং উযুখানায় জুতা-সেন্ডেল ব্যবহার করা।
  • ০৬ বাথরুমে জুতা-সেন্ডেল ছাড়া যাওয়া।
  • ০৭ কোন গাড়ি বা মেহমানের আশপাশে দাঁড়ানো বা জটলা করা।
  • ০৮ উপর থেকে নীচে টয়লেট পেপার বা পানি ইত্যাদি ফেলা।
  • ০৯ রুমের ভিতর বা বাহির নোংরা করে রাখা।
  • ১০ সিঁড়ি দিয়ে উঠা-নামার সময় দৌড়াদৌড়ি বা লাফালাফি করা।
  • ১১ গোসলের সময় হৈ-হুল্লোড় বা শোরগোল করা।
  • ১২ রাতে ঘুমানোর সময় নির্ধারিত ডীম লাইট নিভিয়ে দেওয়া।
  • ১৩ ড্রেনে বা অযুখানায় ভাত ফেলা ইত্যাদি।

পরীক্ষা সংক্রান্ত নিয়ম-কানুন

  • ০১ পরীক্ষা শুরু হওয়ার নির্ধারিত সময়ের ১৫ মিনিট পূর্বে বিশেষ সংকেত ধ্বনি (টুনটুনী) দেয়া হবে। অতএব, ছাত্ররা ব্যক্তিগত জরুরত থেকে ফারেগ হয়ে ওয়ার্নিংবেল বাজামাত্রই পরীক্ষার হলে প্রবেশ করবে। অতঃপর ঘণ্টা বাজার সাথে সাথে হলের গেইট বন্ধ হয়ে যাবে, তখন কোন ছাত্রকে হলে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না। তবে প্রধান নিগরান মুনাসিব মনে করলে উপযুক্ত শাস্তি দিয়ে প্রবেশের অনুমতি দিতে পারেন।
  • ০২ সকল ছাত্রকেই পরীক্ষার হলে প্রবেশপত্র নিয়ে প্রবেশ করতে হবে। কোন ধরণের কিতাব, কাগজপত্র ইত্যাদি নিয়ে হলে প্রবেশ করতে পারবে না।
  • ০৩ পরীক্ষা আরম্ভ হওয়ার ১৫ মিনিট পর কোন পরীক্ষার্থীকে হলে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না। কিন্তু ১৫ মিনিটের পূর্বে আসলে নেগরানে আ’লার অনুমতিক্রমে হলে প্রবেশ করতে পারবে।
  • ০৪ জামাআতে নাহবেমীর পর্যন্ত প্রশ্ন বাংলায় করা হবে। জামা’আত হিদায়াতুন্নাহু হতে আরবী ও উর্দুতে এবং তার উপরের জামা’আতগুলোতে আরবীতে প্রশ্ন করা হবে।
  • ০৫ প্রশ্নপত্র পাওয়ার পর ১ ঘণ্টার ভিতরেই প্রশ্ন বুঝে নিতে হবে। ১ ঘণ্টা অতিবাহিত হওয়ার পর কোন প্রশ্ন বুঝানো হবে না।
  • ০৬ পরীক্ষা কেন্দ্রে বা বাহিরে কোন প্রকার অবৈধ পন্থা অবলম্বন করবে না। কোন অবৈধ পন্থার প্রমাণ পাওয়া গেলে তা বহিষ্কারযোগ্য অপরাধ বলে বিবেচিত হবে।
  • ০৭ পরীক্ষার এক সপ্তাহ পূর্ব থেকে পরীক্ষা শেষ হওয়া পর্যন্ত ছাত্ররা কামরায় রাত্রে উর্ধ্বে ১১:৩০ মিনিট পর্যন্ত পড়াশুনা করতে পারবে। হিফয বিভাগের যে যতটুকু পড়েছে তার ততটুকু থেকে পরীক্ষা হবে।
  • ০৮ ১ম সাময়িক পরীক্ষার পর থেকে হাজিরা খাতায় ছাত্রদের নাম পরীক্ষার ফলাফল অনুযায়ী উঠবে।
  • ০৯ পরীক্ষার্থীরা পরস্পরে কথা বললে তাদের সিট পরিবর্তন করে দেয়া হবে অথবা অপরাধ বিশেষে ১৫ মিনিট পর্যন্ত দাঁড় করে রাখা হবে।
  • ১০ কোন ছাত্রের কাছে যে কোন ধরনের নকল পাওয়া গেলে তাকে মাদরাসা থেকে বহিষ্কার করা হবে।
  • ১১ যে সমস্ত ছাত্র বিশেষ ওজরের কারণে পরীক্ষা দিতে পারবে না, তারা ওজর উল্লেখপূর্বক দরখাস্ত লেখে নাযেমে তালীমাত থেকে মঞ্জুর করিয়ে নিবে।
  • ১২ কোনো পরীক্ষার খাতা ফেরত দেয়া হবে না। কারও কোন অভিযোগ থাকলে তা নাযেমে তা’লীমাতকে জানাবে। নাযেমে তা’লীমাত সংশ্লিষ্ট পরীক্ষকের সাথে আলোচনা করে ছাত্রকে তার অভিযোগের জওয়াব জানাবে।
  • ১৩ কোন ছাত্র বাৎসরিক পরীক্ষায় ভর্তি নম্বর না পেলে তাকে উপরের জামা’আতে তারাক্কী দেয়া হবে না।

পরীক্ষার্থীদের জন্য আবশ্যকীয় পালনীয় নিয়মাবলী

  • পরীক্ষার্থীকে নির্ধারিত বেঞ্চের নির্দিষ্ট স্থানে বসতে হবে। ডানে-বামে, সামনে-পিছনে তাকানো যাবে না।
  • কোন ছাত্রের সাথে কথা বলা যাবে না।
  • উত্তরপত্রে লাল কালি ব্যবহার করা যাবে না।
  • পরীক্ষার্থী নিজের হাতে, বোর্ডে এবং প্রশ্নপত্রে কোন কিছু লেখতে পারবে না। অংক ও সিরাজী পরীক্ষায় রাফ করার প্রয়োজন হলে উত্তরপত্রের শেষ পৃষ্ঠা ব্যবহার করে কেটে দিবে।
  • ইস্তিঞ্জার প্রয়োজন হলে হলের জিম্মাদার কোন উস্তাদের অনুমতি নিয়ে কার্ডসহ নির্ধারিত ইস্তিঞ্জাখানায় ইস্তিঞ্জা সেরে অন্য কোথাও না গিয়ে তাড়াতাড়ি হলে ফিরে আসবে।
  • কোন পরীক্ষার্থী নিজ হাতে লুজ কাগজ সংযুক্তির বিবরণ লিখতে পারবে না। লুজ দানকারী উস্তাদ লুজ সংযুক্তির বিবরণ অংকে লিখে দিবেন এবং সাথে সাথে সাংকেতিক স্বাক্ষর দিবেন।
  • পরীক্ষার্থীদের কোন অভিযোগ থাকলে হলসুপার বা হলের কোন জিম্মাদার উস্তাদকে জানাতে পারবে।
  • পরীক্ষার্থী কাউকে পরীক্ষায় কোন রকম অসদুপায় অবলম্বন করতে দেখলে বা জানতে পারলে সাথে সাথে হলসুপার বা হলের কোন জিম্মাদার উস্তাদকে অবশ্যই অবহিত করবে।

বোর্ডিং সম্পর্কিত কানুন

  • কেউ বাড়ি বা অন্য কোথাও গেলে বোর্ডিং-এ খানা বন্ধ করে যেতে হবে। অন্যথায় নির্ধারিত শাস্তি গ্রহণ করতে বাধ্য থাকবে।
  • ছুটি/বন্ধের পর খোলার তারিখে মারকাযে পৌঁছেই বোর্ডিং-এ খানা জারি করতে হবে। অন্যথায় শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে।
  • যে সমস্ত ছাত্রের অনুপস্থিত থাকার কারণে বোর্ডিং-এ খানা বন্ধ হবে, তাদের দ্বিতীয়বার খানা জারী করতে হলে দরখাস্ত লিখে বোর্ডিং ম্যানেজার থেকে সত্যায়নের পর নেগরানের সুপারিশ নিয়ে নাযেমে তালীমাত থেকে মঞ্জুর করিয়ে খানা জারী করতে হবে।
  • সপ্তাহের যে কোন দিন হাজিরা ডাকা হবে।
  • অনুপস্থিত থাকলে শাস্তি প্রদান করা হবে।
  • প্রত্যেক মাসের ১০ তারিখের মধ্যেই মাসিক প্রদেয় পরিশোধ করতে হবে।

📖 ছাত্রদের নিয়ম কানুন — মারকায